নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির গ্রুপের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকজন যুবক ও কিশোরকে পেশাদার অপরাধীদের মতো হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে প্রকাশ্যে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গোলাগুলিতে অংশ নিতে দেখা গেছে।
এই ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক (২০) নামে এক যুবক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এছাড়া উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত অনিক দড়িগাঁও এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির গ্রুপের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। এরই জেরে ভোর থেকেই উভয় পক্ষের শত শত লোক আগ্নেয়াস্ত্র এবং দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত করে। একপর্যায়ে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিহিত একদল সশস্ত্র যুবককে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে দেখা যায়।
দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনায় অনিক, রাজু, সুমন, কাশেম ও মোবারকসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অনিক, রাজু ও মোবারককে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবণতি হলে চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। পরে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনিকের মৃত্যু হয়। বাকি আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবর রহমান বলেন, নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির গ্রুপের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিলো। ভোরে তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে থানা-পুলিশ, র্যাব ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে সহিংসতা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মামলা দায়েরসহ অন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান।