পরিবারসহ জাপান যাচ্ছিলেন প্রবাসী, রাস্তায় সব কাড়লো ডাকাত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পুলিশ চেকপোস্টের কাছেই এক সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দলের হামলায় এক জাপান প্রবাসী দম্পতি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা গুরুতর হেনস্তার শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডাকাতেরা তাদের কাছ থেকে প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কা, দামি মুঠোফোন ও নগদ টাকা লুটে নিয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকার বেশি।

বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহাসড়কের পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা টোলপ্লাজা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতির শিকার আরমান (৪০) ফেনী জেলার আব্দুস সোবহানের ছেলে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, প্রবাসী আরমান তার স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জাপান যাওয়ার উদ্দেশে ফেনী থেকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসযোগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে আসছিলেন। গাড়িটি মেঘনা টোলপ্লাজা সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে দেশীয় অস্ত্র চাপাতি, ছুরি ও লোহার রড নিয়ে ৫-৬ জনের একদল ডাকাত গাড়িটির গতিরোধ করে। গাড়িটি থামামাত্রই ডাকাতেরা চালকসহ আরমান ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর শুরু করে। এরপর জোর করে প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণ, একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্সসহ তিনটি মুঠোফোন এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক মোটরসাইকেল আরোহী জানান, আমিও ওই সময় একই পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম। দূর থেকে ৫-৬ জনকে চাপাতি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভয়ে আমি বাইক থামিয়ে দিই, সামনে এগোইনি। আমি যখন দাঁড়িয়ে ছিলাম, ঠিক তখনই ওই হাইয়েস গাড়িটিতে ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ চেকপোস্টের একদম সামনেই এমন দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটায় মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামীম শেখ বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনাটি মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকায় পড়লেও তা মূল মহাসড়কে হয়নি। এটি ঘটেছে মহাসড়কের পাশে নিচের একটি সংযোগ সড়কে।

সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম সারোয়ার বলেন, ছিনতাইয়ের এই ঘটনাটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। তবে এখনও সুস্পষ্ট কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি।

থানা পুলিশের চেকপোস্টের সামনেই কেন এমন ঘটনা ঘটলো—জানতে চাইলে তিনি বলেন, চেকপোস্টের সামনেই ঘটেছে বলে শুনেছি, তবে বিস্তারিত তদন্ত না করে এই মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব না।

এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী প্রবাসী দম্পতির আর জাপানে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশি অভিযান চলছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।