স্ত্রীকে হত্যায় স্বামীর ফাঁসি, শাশুড়িকে হত্যায় জামাইয়ের আমৃত্যু কারাদণ্ড

দেশের আলাদা দুটি জেলায় পারিবারিক কলহ ও যৌতুকের জেরে দুটি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত। এর মধ্যে জামালপুরে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড এবং মেহেরপুরে শাশুড়িকে পুড়িয়ে হত্যার অপরাধে জামাইকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর ট্রাইব্যুনাল এই রায় দুটি ঘোষণা করেন।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার দায়ে স্বামী আনোয়ার হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। 

দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আসামির অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত আনোয়ার হোসেন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী লম্বাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফজলুল হক জানান, ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর রাতে এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী ইসমত আরা খাতুনকে নিজ বাড়িতে গলা টিপে হত্যা করেন আনোয়ার হোসেন। ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই মজনু মিয়া বাদি হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে এই রায় দেন। আসামি আনোয়ার বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

এদিকে একাত্তরের মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুরে শাশুড়ির গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার দায়ে জামাই হাউস আলীকে (৫২) আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

দুপুরে মেহেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মাসুদ শেখ এই রায় দেন। 

দণ্ডিত হাউস আলী গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের মহাম্মদ আলীর ছেলে। রায়ের পর পুলিশ তাকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন মামলার বরাতে জানান, স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন তালাক দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন হাউস আলী। এর জেরে ২০১৬ সালের আট মে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শাশুড়ি ফুলসুরাতনের (৬৫) গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। বৃদ্ধার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এই ঘটনায় নিহতের মেয়ে আম্বিয়া খাতুন বাদি হয়ে গাংনী থানায় স্বামী হাউস আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত হাউস আলীকে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন।