জেএমবির ছয় জঙ্গির বিরুদ্ধে সাভারে মামলা, গ্রেপ্তার এক

সাভারে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও ১১টি তাজা পাইপ বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর ছয় সদস্যের নাম উল্লেখ করে পুলিশ দুটি আলাদা মামলা করেছে। এসব ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে এবং মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল আলম মামলার বিষয়টি জানান।

তিনি জানান, বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেন বাদি হয়ে প্রথম মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—সাভারের শ্যামপুরের মো. নাজমুল হাসান মামুন (৩২), পাবনার সুজানগরের মো. আক্কাস আলী (৩০), আশুলিয়ার দিয়াখালী এলাকার কামাল হোসেন (৪৫), রাখী (৩০) ও রাকিব (৩০)।

পুলিশ জানায়, গত ১১ আগস্ট রাতে সাভারের ট্যানারি এস্টেট এলাকার বেড়িবাঁধে নব্য জেএমবির সদস্যরা নাশকতার উদ্দেশে গোপন বৈঠকে মিলিত হলে সিটিটিসি সেখানে অভিযান চালিয়ে আরিফকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে ৯৮ শতাংশ ঘনমাত্রার সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম নাইট্রেট পাউডার, আইইডি তৈরির ডেটোনেটর, রিমোট কন্ট্রোলারসহ সাড়ে আড়াই ডজন আলামত জব্দ করা হয়।

একই স্থান থেকে ১১টি তাজা পাইপ বোমা উদ্ধার করে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট তা ঘটনাস্থলেই নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।

সাইফুল আলম আরও জানান, গ্রেপ্তার আরিফকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ, সিটিটিসি, র‍্যাব ও অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) যৌথ অভিযান চালাচ্ছে।

অন্যদিকে, সাভারের সাধাপুর এলাকায় একটি প্রেসার কুকারসদৃশ বস্তু ও বোমা উদ্ধারের ঘটনায় ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ইমরান হোসাইন বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করে আলাদা একটি মামলা করেছেন। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।