মেহেরপুরে তালাক দেওয়ায় কলেজছাত্রীর হাত বিচ্ছিন্ন: পুলিশ

তালাক দেওয়ার জেরে মেহেরপুর শহরে এক কলেজছাত্রীর ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে তার সাবেক স্বামী।  ধারালো অস্ত্রের কোপে ওই ছাত্রীর ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে গেলে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয় তার বাবা-মাকেও। 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের লর্ডমার্কেট এলাকায় ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। 

হাত বিচ্ছিন্ন হওয়া কলেজছাত্রীর নাম স্মৃতি খাতুন। তিনি ও এলাকার সেলিম হোসেন ও রেবেকা খাতুনের মেয়ে। আহত তিনজনকেই গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাতটার দিকে মূল অভিযুক্ত সায়নকে (২৩) আটক করেছে পুলিশ। সায়ন শহরের মল্লিকপাড়ার বাসিন্দা এবং পেশায় ট্রাকচালক।

স্থানীয়রা জানান, রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন সেলিম হোসেন, রেবেকা খাতুন ও তাদের মেয়ে স্মৃতি খাতুন। রাত দেড়টার দিকে সায়ন জানোলা বেয়ে ছাদে উঠে বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে কুপিয়ে স্মৃতির ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে বাবা-মা ছুটে এলে তাদের ওপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায় সায়ন।

পরে প্রতিবেশীরা তাদের চিৎকার শুনে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত ব্যক্তিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন চিকিৎসক।

খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা-পুলিশের একাধিক দল ও র‌্যাবের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে অভিযান চালিয়ে বুধবার সকালে মল্লিকপাড়ার একটি আমবাগান থেকে পলাতক সায়নকে আটক করা হয়।

মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবীর জানান, সায়ন ও স্মৃতির মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেম ছিলো এবং সম্প্রতি তাদের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের কয়েক দিন পরই দাম্পত্য কলহের জেরে সায়নকে তালাক দেন স্মৃতি। প্রাথমিক তদন্তে তালাকের জেরেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক সায়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তদন্ত শেষে হামলার বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।