‎বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে বরযাত্রীর মাইক্রোবাসের গতিরোধ ও ভাঙচুর চালিয়ে এক নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রেমিক ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। 

রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় সিনেমাটিক কায়দায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত যুবকের নাম আতিকুর রহমান মিয়াদ (২৪)। তিনি জিনারী ইউনিয়নের চর হাজিপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়রা জানান, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে পাশাপাশি নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের এক যুবকের পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান শেষে নতুন কনেকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে শশুড়বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বর ও বরযাত্রীরা।

রাতে যানবাহনটি হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে আতিকুর রহমান মিয়াদের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একদল যুবক গাড়িটির গতিরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা মুহূর্তের মধ্যেই মাইক্রোবাসটিতে ভাঙচুর চালায় এবং বরযাত্রীদের ওপর আতঙ্ক সৃষ্টি করে নববধূকে ‘জোর করে’ তুলে নিয়ে চম্পট দেয়।

ঘটনার পরপরই তাদের পুরনো প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো এবং এ নিয়ে এলাকায় পূর্ব থেকেই আলোচনা চলছিলো। প্রেম মেনে না নিয়ে পরিবার অন্যত্র বিয়ে দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এদিকে সংগঠনের কর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বীকার করে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ কাইসার শহীদ বলেন, আতিকুর রহমান মিয়াদ ছাত্রদলের কর্মী হলেও সে যা করেছে তা চরম অন্যায়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। মেয়ের পরিবার আইনি ব্যবস্থা নিলে পুলিশকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ জানান, ঘটনাটি জানার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, মেয়ের সঙ্গে ছেলেটির পূর্বপ্রণয়ের সম্পর্ক ছিলো বলে জানা গেছে। সম্পর্কের বিষয়টি স্বজনেরা মেনে না নেওয়ায় ছেলেটি এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে কনেকে সরাসরি কীভাবে নেওয়া হয়েছে এবং কারা এতে যুক্ত ছিলো, তা তদন্তের বিষয়। কনের স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিলেই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।