সাভারে মাদ্রাসায় ছয় মাস ধরে বলাৎকার, শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার পাঁচ

সাভারের শাহীবাগের এক মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে টানা ছয় মাস ধরে বলাৎকার ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগের চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ও শনিবার  (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ঈশান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন, কামরুজ্জামান, তাহমিদ হাসান রাফি, মো. সাজেদুল ইসলাম সায়েম এবং মোহাম্মদ বিন মুক্তার। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, সাভারের শাহীবাগের মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসার ওই শিশু শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে বলাৎকার করা হচ্ছিলো। পরে সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেশের একাধিক জেলায় সাভার মডেল থানা, আশুলিয়া থানা পুলিশ ও ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একটি যৌথ টিম সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় গত ২৬ আগস্ট সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির তদন্তে নেমে ভোলা, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে রাফি, বরগুনার বেতাগী থেকে সায়েম এবং সাভারের চাপাইন এলাকা থেকে মোহাম্মদ বিন মুক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মূল অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেনকে ভোলার চরফ্যাশন থেকে এবং অপর আসামি কামরুজ্জামানকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে সাভার মডেল থানা-পুলিশ।