নরসিংদীতে বিনামূল্যে মদ না পেয়ে দেশীয় মদের দোকানের কর্মচারীর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ওই দোকান কর্মচারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এদিকে ওই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক সংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান। পরে নরসিংদী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এ আর এম আল মামুন ও ভিকটিমের বাবা বাবা মনির হোসেন জানান, বিকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুরুতর দগ্ধ রাব্বী মারা গেছেন।
এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জাহাঙ্গীর সরকারকে (৬০)। তিনি হোটেল নিরালার মালিক।
পুলিশ জানায়, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত একটার দিকে নরসিংদী মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি যৌথ দল শহরের বানিয়াছল বালুরমাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর সরকারকে গ্রেপ্তার করে।
এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কাজী তৌফিক আহমেদ ওরফে পিয়াস নামের আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এ ঘটনার অন্যতম মূল অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরের ছেলে জাহিদ সরকার এখনও পলাতক রয়েছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান জানান, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের বাজির মোড় এলাকায় লাইসেন্সধারী দেশীয় মদের দোকানে গিয়ে বিনামূল্যে ১০ লিটার মদ দাবি করেন হোটেল নিরালার মালিক জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে জাহিদ সরকারসহ কয়েকজন। মদ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাউন্টারের ভেতরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এতে ভেতরে থাকা কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বির (৩০) মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। তাকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নরসিংদী সদর মডেল থানায় জাহাঙ্গীর সরকার ও তার ছেলে জাহিদ সরকারের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন দগ্ধ রাব্বির মা মিনু বেগম। নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান জানান, চিকিৎসাধীন রাব্বির মৃত্যুর খবর আমরা শুনেছি। এ ঘটনায় রাব্বির মা বাদি হয়ে যে মামলাটি করেছেন হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামি জাহিদ সরকারকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।