সাধারণ এক আবাসিক সংযোগে মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে মাগুরায় ইস্যু করা হয়েছে অবিশ্বাস্য ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল! ভূতুড়ে ও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা জানাজানি হতেই বিদ্যুৎ বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
গাফিলতির দায় ছড়িয়ে পড়ায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামসহ চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একই সাথে ভুক্তভোগী নারী গ্রাহককে সরাসরি ফোনে কল দিয়ে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বুধবার, মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর পদক্ষেপ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিবরণ নিশ্চিত করা হয়।
মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের নিভৃত বাসিন্দা মোছা. আলেয়া খাতুনের হাতে যখন সাড়ে পাঁচশত কোটি টাকার কাছাকাছি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ তুলে দেওয়া হয়, তখন তাঁর চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয়। পরে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তড়িঘড়ি করে ভুল শুধরে মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকার সংশোধিত বিল ইস্যু করে কর্তৃপক্ষ, যা গ্রাহক সঙ্গে সঙ্গে পরিশোধ করেন।
মন্ত্রণালয়ের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক মারাত্মক ও হাস্যকর প্রযুক্তিগত ভুল, মিটার পরিবর্তনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্তকর্মীরা অসাবধানতাবশত মিটারের সিল নম্বরটি চাহিদা চার্জ বা 'ডিমান্ড চার্জ'-এর ঘরে বসিয়ে দিয়েছিলেন! আর তাতেই তৈরি হয় রূপকথার মতো এই অবাস্তব টাকার পাহাড়সম বিল।
তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরপরই জিএম মো. মহিতুল ইসলামসহ আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের বিলিং সুপারভাইজার সীমা রানী রায়, বিলিং সহকারী সোমা রানী ঘোষ এবং মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার মোহাম্মদ তোরাপ আলীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে যশোর ও মাগুরার বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। মহম্মদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম এস এম শাহিন আহসানকে ভারপ্রাপ্ত জিএম হিসেবে মাগুরার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগী আলেয়া খাতুনকে নিজে ফোন করেন মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ফোনালাপে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব ও সেবাধর্মী প্রশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং জনগণের মানসিক বিড়ম্বনার জন্য তিনি অনুতপ্ত।
তবে এত বড় অঙ্কের বিলের ধাক্কায় হতচকিত আলেয়া খাতুন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, একের পর এক ফোনের চাপে তাঁর মাথা গোলমাল হয়ে গিয়েছিল! এমন নজিরবিহীন ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে দেশজুড়ে হাসাহাসি ও তোলপাড় অব্যাহত রয়েছে।