পূর্ব সুন্দরবনে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারের সময় বনরক্ষীদের গুলিতে এক শিকারি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বুধবার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী অভয়ারণ্য এলাকার চাঁদের আড়া খালে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিতে আহত জয়নাল মাঝি নামের ওই শিকারি বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা গ্রামের আব্দুর রশিদ মাঝির ছেলে।
শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শেখ মাহাবুব হাসান জানান, একদল শিকারি কচিখালী অভয়ারণ্য এলাকার চাদের আড়া খাল এলাকার বনে হরিণ শিকারের জন্য ফাঁদ পেতে রাখে। এরপর ওই খালে মাছ ধরার অজুহাতে নিষিদ্ধ বেন্দি জাল পেতে একটি ট্রলারে অবস্থান করছিলো তারা। বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের স্মার্ট পেট্রোলিং দল নিয়মিত টহল দেয়ার সময় ওই ট্রলারটি দেখে তাদের চ্যালেঞ্জ করে।
তিনি জানান, বনরক্ষীদের দেখতে পেয়ে শিকারি দলটি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। এসময় বনরক্ষীরা স্পিডবোটে তাদের ধাওয়া করে। বনরক্ষীরা কাছাকাছি গেলে শিকারি দল ট্রলার দিয়ে সজোরে তাদের বোটকে ধাক্কা দিলে তিন বনরক্ষী পানিতে পড়ে যায় এবং স্পিডবোটটি আংশিক ভেঙ্গে যায় ও বোটে পানি উঠে যায়। বনরক্ষীরা এসময় তাদের জানমাল রক্ষার্থে ফাঁকা গুলি ছুড়লে শিকারিরা ট্রলার নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, পরে বনের ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৩০০ ফুট হরিণ শিকারের ফাঁদ ও বেন্দি জালসহ কয়েক মণ মাছের রেণু উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সরকারি কাজে বাধা ও বনে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এসিএফ আরও জানান, বনরক্ষীদের একটি গুলি জয়নাল মাঝি নামের এক শিকারির হাতে লাগলে তিনি সামান্য আহত হয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
এ ব্যাপারে মোবাইলে জয়নাল মাঝির বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজেকে একজন জেলে দাবি করে বলেন, তারা কচিখালীর ওই এলাকায় মাছ ধরছিলেন। এসময় বনরক্ষীরা এসে তাদের ওপর এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। গুলিতে তার ডান হাতের কনুইয়ের ওপর থেকে মাংস ছিঁড়ে যায়। তিনি বর্তমানে বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।