বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘুর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে বৃষ্টিপাতের কারণে বাগেরহাটের সুন্দরবনের দুবলার চরে জেলেদের শুঁটকি মাছ পচে পচে গেছে। পচে যাওয়া এসব শুটকি মাছ থেকে এখন ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। সংশ্লিষ্টা বলছেন, এখনই ওই পচা মাছগুলো ফেলে না দিলে চরগুলো জেলেদের টেকা মুশকিল হয়ে যাবে। ফিশারম্যান গ্রুপের দাবি, নষ্ট হয়ে যাওয়া মাছের পরিমাণ প্রায় ৬০ কুইন্টাল। এর দাম আনুমানিক কোটি টাকা।
বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন শেলার চর, নারিকেলবাড়িয়া, মাঝেরকেল্লা ও আলোরকোল নিয়ে দুবলার চর।
তিন নভেম্বর থেকে এই চরে শুরু হয়েছে শুটকি মৌসুম। যা চলবে আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত। বন বিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে ১৬টি বহরদ্দারের মাধ্যমে ১০ সহশ্রাধিকের বেশি জেলে, মহাজন, শ্রমিক ওই সব চরে গেছেন। এক হাজার ৩৫টি অস্থায়ী ঘর করে জেলেরা ওই সব চরে অবস্থান করছে।
সেখানে জেলেরা সাগর থেকে বিভিন্ন ধরণের মাছ ধরার পর ওই সব চরে নিয়ে কাটা-বাছা এবং মাছ শুকানোর কাজে ব্যবস্ত ছিল। কিছু মাছ চরে মাচায় শুকানো হচ্ছিলো, আবার কিছু মাছ শুকানোর জন্য প্রস্তত করা হচ্ছিলো। কিন্তু দুইদিন ধরে বৃষ্টি আর ঝড়ো বাতাসে চরে থাকা কাঁচা, অর্ধশুকনা এবং প্রায় শুকনা সব মাছ পচে নষ্ট হয়ে গেছে।
শুক্রবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি খেপুপাড়ার কাছ দিয়ে মোংলা-পায়রা উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে। এর প্রভাবে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় সুন্দরবনের বিভিন্ন চড়ে বৃষ্টি ঝরতে থাকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব এলাকায় ভারী বর্ষণ হয়। ঝড়ো বাতাস এবং বৃষ্টিপাতের কারণে সুন্দরবনের শেলার চর, নারিকেলবাড়িয়া, মাঝেরকেল্লা ও আলোরকোলে শুটকির জন্য শুকানো এবং কাচা অবস্থায় প্রায় ৬০ হাজার কুইন্টাল মাছ পচে নষ্ট হয়ে যায়।
বাগেরহাটের মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন অর-রশীদ জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। এসময় সুন্দরবন উপকূল এবং সাগর মোহনায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেই সঙ্গে দমকা বাতাস বয়ে গেছে।
দুবলার চর জেলে টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. খলিলুর রহমান জানান, বুধবার সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার পর আবহাওয়া বিভাগ মোংলা বন্দরকে এক নম্বর বিপদ সঙ্কেত জারি করে। ওই দিন সন্ধ্যা থেকে ওই সব এলাকায় গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়।
তিনি আরও জানান, বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ো বাতাসের কারণে ওই চারটি চরে কাঁচামাছ, অর্ধকাঁচা এবং প্রায় শুকনা মিলে ৬০ হাজার কুইন্টাল মাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া জালে ধরা পরার পর বেশকিছু মাছ জেলেরা আবার সাগরে ফেলে দিয়েছে। এখন চরগুলোতে পচা মাছের দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দ্রুত এসব মাছ এখান থেকে না সরালে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ধারনা করা যাচ্ছে, পচে প্রায় এক কোটি টাকার মাছ নষ্ট হয়েছে। শনিবার ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।
দুবলা ফিস্যারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দীন আহম্মেদ জানান, পচা মাছ সাগরে ফেলে না দিলে ওই চরগুলোতে মানুষ অবস্থান করতে পারবে না। নষ্ট হয়ে যাওয়া মাছের পরিমাণ ৬০ হাজার কুইন্টালের মতো।
তিনি জানান, শুটকি মাছ পচে এরি মধ্যে পোকা হয়ে গেছে। ওই সব শুটকি মাছ এখন বর্জতে পরিণত হয়েছে। দ্রুত ওই পচা মাছ চর থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম জানান, জেলেদের ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয়ে সেখানে দায়িত্বে থাকা বন বিভাগের স্টাফদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেলে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব জানা যাবে।