বাগেরহাটে রাধালীর খান পুনঃখনন শুরু

পলি জমে কয়েক যুগ ধরে বন্ধ হয়ে আছে রাধালীর খাল। বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার এ খালে এক সময় নিয়মিত জোয়ার-ভাটা দেখা যেতো। কিন্তু বর্তমানে পানিশূন্য হওয়ায় পায়ে হেঁটেই খালটি পারাপার হচ্ছে মানুষ। 

তবে মৃতপ্রায় খালটি বাঁচাতে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ১০ হাজারের বেশি মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে দীর্ঘদিন পর খালটি পুনঃখনন শুরু হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সকালে জেলার রামপাল উপজেলার চাকশ্রী এলাকায় খালটি পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেন। রাধালীর খাল চাকশ্রী, পবনতলা এবং ব্রি চাকশ্রী গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহমান। 

জেলা প্রশাসনের সূত্র জানিয়েছে, নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে দুটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার বাস্তবায়নে ইনটিগ্রেটেড ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট শীর্ষক প্রকল্পের উদ্যোগে এই খালটি পুনঃখনন করা হচ্ছে। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি খননে ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় লাখ টাকা।

খালটি খনন শেষ পানি প্রবাহ ফিরে পেলে এলাকার মাটির দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমে আসবে। কৃষিকাজের জন্য পানির সেচ নিশ্চিত হবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান।

চাকশ্রী গ্রামের আল-আমিন ও আসলাম শেখ জানান, রাধালীর খালটিতে একসময় পানি প্রবাহ ছিল। দীর্ঘদিন ধরে পলিমাটি জমে খালটি বন্ধ হয়ে আছে। খালের অনেক এলাকা দিয়ে মানুষ হেঁটে পারপার করে। যখন খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক ছিল তখন জমিতে চাষবাদ এবং কৃষিউৎপাদন ভালো ছিল। কিন্তু খালে পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ার কারণে তাদের চাষাবাদ ব্যহত হচ্ছে। 

খালটি পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের সময় জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেন বলেন, পরিবেশ-প্রতিবেশ ঠিক রাখতে নদী-খাল ও উন্মক্ত জলাশয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। তাই নদী-খাল খননের মধ্যে দিয়ে পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে হয়। এলাকার মানুষের সুবিধার্থে রাধালীর খালটি পুনঃখনন করা হচ্ছে।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম, বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শংকর মজুমদার,বাইনতলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফকির আব্দুল,সোলডার প্রজেক্টের ম্যানেজার ড. উৎপল কুমারসহ স্থানীয় উপকারভোগীরা।