দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে চান শরণখোলার মানুষ

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা থেকে আজ পর্যন্ত সংসদে কোনো প্রতিনিধি পায়নি। এমনকি কোনো প্রার্থীও পায়নি উপজেলটি। তবে এ উপজেলার এক জামাই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ। তাই জামাইকে ভোটে জেতাতে উঠেপড়ে লেগেছে শরণখোলার মানুষ। বাগেরহাট-৪ আসনে জাতীয় পার্টি ও সতন্ত্রসহ মোট সাত প্রার্থী জন রয়েছেন। 

স্থানীয়রা বলছেন, অন্তত জামাই হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার মতো কাউকে পেয়েছি। তাই আমরা দুধের স্বাদ ঘোলে হলেও মেটাবো।

সরেজমিন, জামাই জামাই রবে মুখরিত উপজেলার পাড়া-মহল্লা। বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নেতা- কর্মীরাও যোগ দিচ্ছেন নৌকার জনসভায়। এবার জামাইকে উপহার হিসেবে নৌকা ভরে ভোট দিবেন শ্বশুরালয়ের লোকজন। 

সিডর ও আইলা বিধ্বস্ত জনপদের মানুষের ধারনা, তাদের এলাকার জামাই নির্বাচিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। 
তারা বলেন. নৌকার মাঝি সোহাগ ভোটের প্রচার এসে শরণখোলায় একটি মিনি স্টেডিয়াম, পৌরসভা, ট্যাকনিক্যাল কলেজ, নদী শাসনসহ সুন্দরবন কেন্দ্রিক ইকো-ট্যুরিজম স্পট স্থাপনে কাজ করবেন বলেন জানিয়েছেন। 

সুন্দরবন উপকূলে শরণখোলা-মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-৪ আসন গঠিত। স্বাধীনতার পর এ আসনটি মোট পাঁচ বার আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত মোজাম্মেল হোসেনের পর সর্বশেষ এ্যাড. আমিরুল আলম মিলন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। 

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা তরুণ নেতৃত্ব এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগকে নৌকা মার্কা দিয়েছেন। তার নির্বাচনী এলাকা মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ১৬ টি ইউনিয়ন। এখানে ভোটার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। আর শরণখোলায় রয়েছে মাত্র চারটি ইউনিয়ন, যার ভোটার সংখ্যা ৯৯ হাজার ৫০০। 

সুদীর্ঘ বছরেও শরণখোলায় যেমন রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি, তেমনি এখানে ভোটার সংখ্যাও অনেক কম। তাই এই সঙ্কটে  শরণখোলা থেকে কখনও কারো এমপি হয়ে ওঠা হয়নি। যতোবার যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের সবার বাড়িই মোড়েলগঞ্জে। 

এ বছর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শরণখোলার মরহুম মনিরুজ্জামান বাদলের জামাতা বদিউজ্জামান সোহাগ নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় শরণখোলার মানুষ সবাই অনেক উৎফুল্ল। দুই উপজেলায়ই তার ‘ক্লিন ইমেজ’ রয়েছে। সমানভাবে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব। 

শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের মুদি দোকানি মোফাজ্জেল হোসেন, কৃষক আ. সালাম, ইউনিয়নের গাবতলা গ্রামের জেলে মিজানুর রহমান, বনজীবী শাহজাহান, বগী গ্রামের গৃহিনী আয়শা, তাসলিমারা জানান, আমরা জামাইকে এমপি প্রার্থী হিসেবে পেয়ে খুব খুশি। তিনিই আমাদের দুঃখ-দুর্দশা বুঝবেন। আমরা তার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছি। তিনি অবশ্যই বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। 

শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দীন শান্ত ও ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজ,যুলীগ নেতা বাদশা আলমঙ্গীর, হুমায়ূন করিম সুমন বলেন, শরণখোলার মানুষ এবার আপন একজন মানুষকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে পেয়েছেন। তিনি এ এলাকার জামাই, তাকে সবাই শ্রদ্ধা ভক্তি করেন। 

শরণখোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, সোহাগ মেধা দিয়ে দ্বিধা-বিভক্ত রাজনীতিকে এক মঞ্চে উঠাতে সক্ষম হয়েছেন। ইনশাল্লাহ তিনি আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে শরণখোলা-মোড়েলগঞ্জ বাসীর ভাগ্যউন্নয়নে কাজ করবেন।

বদিউজ্জামান সোহাগ একাত্তরকে বলেন, এই তরুণ বয়সে শেখ হাসিনা আমাকে মুক্তিযুদ্ধের আলোকে দেশ গড়ার যে গুরুভার মাথায় তুলে দিয়েছেন। তার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে আমি নিবেদিত থাকবো।