সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে ১৯ জন অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি

সুন্দরবনে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বনদস্যুরা। গত কয়েক দিনে পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল ও কোকিলমনি এলাকা থেকে ১৩ জন জেলে এবং ছয় জন মৌয়ালকে অপহরণ করেছে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। অপহৃতদের মুক্তির জন্য জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। দস্যুদের এমন নীরব চাঁদাবাজি ও নির্যাতনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ জেলে ও মৌয়ালরা।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল কোকিলমনি এলাকা থেকে ছয়জন মৌয়ালকে অপহরণ করে দস্যুরা। এর কয়েক দিন পর তিন মে দিবাগত রাতে আলোরকোল এলাকা থেকে একটি নৌকাসহ ১৩ জন জেলেকে তুলে নিয়ে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়।

শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের কুদ্দুস হাওলাদার বুধবার (৬ মে) বিকেলে জানান, তিন মে রাতে তার ছেলে রাকিব হাওলাদার (২৪) মাছ ধরতে গিয়ে অপহৃত হয়েছে। একই এলাকার আলতাফ হাওলাদারও তার ভাতিজা ছগিরের (৩২) অপহৃত হওয়ার খবর জানিয়েছেন।

নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজাপুর এলাকার এক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, তাদের চার মহাজনের ১১ জন জেলেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করেছে। দস্যুরা এখন জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করছে।

এখন পর্যন্ত যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন—উত্তর রাজাপুর গ্রামের লুৎফর হাওলাদার (৩০), বাদল হাওলাদার (৩৫), সজিব হাওলাদার (২৭), রুবেল হাওলাদার (৩০), হাফিজুল (২২), আলমগীর ফরাজী (৫০), ইয়াসিন হাওলাদার (২৩); সাউথখালী ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামের সগীর (৪০) ও সরোয়ার হোসেন (৩৭); পাথরঘাটার পদ্মা স্লুইস এলাকার রুবেল (২৫) এবং খুলনার বটিয়াঘাটার দেব চন্দ্র (২৫)। এছাড়াও আরও কয়েকজন জেলে ও মৌয়াল দস্যুদের হাতে জিম্মি রয়েছেন।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যুরা গভীর বনে অবস্থান নিয়ে সুযোগ বুঝে জেলে ও মৌয়ালদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। অপহরণের পর মুক্তিপণের দাবিতে নির্যাতনও করা হচ্ছে। আমরা দস্যুদের গতিবিধি ও তথ্য নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছি।

তবে এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামিনুল হক। তিনি জানান, জেলে ও মৌয়াল অপহরণের খবর তার জানা নেই। এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ বা সঠিক তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।