যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলে ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেনের ভাড়া বাসায় ১০-১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত আকস্মিক সশস্ত্র হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছে। পূর্বের ব্যবসায়িক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে যশোরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
এসময় লিখিত বক্তব্যে সোহাগ হোসেন জানান, গত শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১০টার দিকে বেনাপোলের বড়আঁচড়া এলাকায় তার ভাড়া বাসভবনে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র দল হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাসার সামনে এসে তাকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারা ঘরের জানালা ও দরজা লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
তিনি বলেন, হামলাকারীদের ছোড়া একটি গুলি জানালার কাচ ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে দেয়ালে আঘাত করে এবং আরও কয়েকটি গুলি ঘরের বিভিন্ন অংশে লাগে। ঘটনার সময় আমি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভেতরেই ছিলাম। অল্পের জন্য আমরা সবাই প্রাণে রক্ষা পেয়েছি।
ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেনের অভিযোগ, এই হামলার কারণে শুধু তার জীবনই হুমকির মুখে পড়েনি, বরং পুরো বড়আঁচড়া এলাকায় চরম ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দিলে বেনাপোল পোর্ট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। তার বাসার আশপাশে এবং ওই এলাকায় স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে হামলাকারীদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন প্রশাসনের কাছে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতা এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা-পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ আলামত সংগ্রহ করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।