সুন্দরবনের গহীন জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে আবার হানা দিয়েছে বনের রাজা! ভোলা নদীর তীরে এক মৃত গরুর দেহাবশেষ আর কাদায় বিশাল বিশাল বাঘের তাজা পায়ের ছাপ- ব্যস, এই দেখেই সুন্দরবন সংলগ্ন তিন গ্রামের মানুষের বুকের ভেতর ঢিপঢিপানি শুরু হয়ে গেছে। বাঘের এমন হুংকার আর সম্ভাব্য আক্রমণের আশঙ্কায় এক রাতের ব্যবধানে ঘুম উড়ে গেছে শরণখোলার তিন গ্রামের বাসিন্দাদের!
ঘটনার সূত্রপাত পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জসংলগ্ন খুড়িয়াখালী, সোনাতলা ও রাজাপুর গ্রামে। জানা যায়, গত রবিবার রাতে সুন্দরবনসংলগ্ন ভোলা নদীর চরে একটি মৃত গরুকে বাঘে সাবাড় করে কেটেছে বলে দেখতে পান স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলে গিয়ে অর্ধেক খাওয়া গরুর অবশিষ্টাংশের পাশাপাশি থাবা বসানো বাঘের স্পষ্ট পায়ের ছাপ নজরে আসতেই পুরো এলাকায় চাউর হয়ে যায় ‘বাঘ এসেছে!’ খবর।
পরদিন সোমবার সকালেও পানির চরে বাঘের যাতায়াতের নতুন ছাপ দেখা গেলে আতঙ্কের পারদ চরম আকার ধারণ করে।
বাঘের এই আকস্মিক পদচারণায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে মাঠে নামে ওয়াইল্ড টিমের ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের সদস্য ও বন বিভাগ। ওয়াইল্ড টিমের শরণখোলা উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর আলম হাওলাদার জানান, তাঁরা সরেজমিনে গিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালিয়ে বাঘের তাজা পায়ের ছাপের সত্যতা পেয়েছেন।
এরপর থেকেই পুরো এলাকায় মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচতে গ্রামবাসীও রাত জেগে লাঠি-মশাল হাতে পাহারার বন্দোবস্ত করেছেন।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, লোকালয় ও বন একেবারে কাছাকাছি হওয়ায় খাবার বা সুবিধার খোঁজে মাঝেমধ্যেই বাঘ কিংবা হরিণ নদী পার হয়ে চলে আসে। তবে লোকজনের উদ্দেশ্যে তাঁর কড়া বার্তা- রাতে একা একা ঘোরাঘুরি একদম বন্ধ রাখতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি এলাকাবাসীকে মনে করিয়ে দেন, কোনো অবস্থাতেই বাঘের ওপর চড়াও হওয়া বা তার ক্ষতি করা যাবে না। লোকালয়ে বাঘের দেখা মিললেই যেন আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে তৎক্ষণাৎ বন বিভাগকে খবর দেওয়া হয়। আপাতত বাঘের এই রক্তহিম করা আতঙ্কে তটস্থ শরণখোলার তিন গ্রামের মানুষ, আর পরিস্থিতি সামাল দিতে সজাগ দৃষ্টি রাখছে বনের প্রহরীরা।