বিল্ডিং কোডের তোয়াক্কা না করে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রতিযোগিতা চলছে ময়মনসিংহ নগরীতে। নগরবাসী বলছেন, এক শ্রেণির ভবন মালিক ও ডেভেলপারদের আকাশ ছোঁয়ার এই প্রতিযোগিতা নগরে ঝুঁকি বাড়ালেও এদের ঠেকাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে না সিটি কর্পোরেশন। এদিকে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে এভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।
ময়মনসিংহ নগরীর কাচিঝুলি ইটাখোলা আবাসিক এলাকায় ১ হাজার ২৭২ বর্গফুট জমিতে ভবন নির্মাণের অনুমোদন নিয়েছেন খালিদ হাসান আকন্দ। কিন্তু প্রতিবেশীর রাস্তা বন্ধ করে বাড়তি জমিতে ভবন নির্মাণ করছিলেন তিনি। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে মামলার হুমকিতে পড়েন প্রতিবেশী।
প্রতিবেশী অভিযোগ করে বলেন, আমরা ওনাকে জানানোর পরেও উনি শোনেননি। পরে আমরা পৌরসভায় অভিযোগ করেছি। তাতে, জেদের বশীভূত হয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে উনি আমাদের হয়রানি করছেন।
এনিয়ে কথা বলতে গেলে সাংবাদিকের দিকে তেড়ে আসেন ভবন নির্মাতা খালিদ হাসানের স্ত্রী।
তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আমি কোন পাবলিক ফিগার না যে, কথা বলতে হবে। একইসাথে তিনি সাংবাদিককেও হুমকি দেন।
এদিকে নগরীর জেল রোডে জ্বালানি তেলের পাম্প ঘেঁষে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। এ নিয়ে সিটি কর্পোরেশনে অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার পাননি তেল পাম্পের মালিক।
সাইফুল ফিলিং স্টেশনের মালিক সাইফুল আলম বলেন, আমার অফিস ঘেঁষে তারা ট্যাংকি নির্মাণ করা হয়েছে।
সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম অনুসারে চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা না রেখে বহুতল ভবন নির্মাণ করা যায় না। তবে এই নিয়মের তোয়াক্কা না করেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণ হচ্ছে বহুতল ভবন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মতিউর রহমান বলেন, যেভাবে অপরিকল্পিতভাবে ভবনগুলো গড়ে উঠছে তা আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্যোগে কাজ করতে এটি বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে।
পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এম এ ফারুক বলেন, ভবিষ্যতে যদি স্বল্প মাত্রারও একটি ভূমিকম্প হয়, তা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ভবন নির্মাণের কথা স্বীকার করে খোদ সিটি কর্পোরেশন। কোনো কোনো ভবন নির্মিতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানায় সিটি কর্তৃপক্ষ।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাস জানান, অনেকেই নিয়ম মানছেন না।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন, দ্রুত নগরায়ণ হওয়ায় কিছু কিছু অভিযোগ আসছে। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।
ময়মনসিংহ নগরীতে গত প্রায় পাঁচ বছরে ২১৮টি সাততলার চেয়ে বড় ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে বিল্ডিং কোড না মানায় ৬০টি ভবন মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ।