ময়মনসিংহে নিছা মনি হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় শিশু নিছা মনিকে (৭) কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নদীতে ফেলে হত্যার মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক অপর এক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন—ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের আরিফ মিয়া (২২), রাকিব মিয়া (২৩) ও সিয়াম (২০)। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী রায়ের এই তথ্য জানান।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেল পাঁচটার দিকে বাড়ির পাশ থেকে শিশু নিছা মনি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৬০০ গজ দূরে কংস নদীর একটি বাঁকে স্থানীয় লোকজন এক শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিছা মনির মরদেহ শনাক্ত করেন।

রাতেই দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে মরদেহ গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এতে সন্দেহ হলে দাফন বন্ধ রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ধোবাউড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় ১৫ জুন শিশুটির বাবা বাদি হয়ে ধোবাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরিফ, রাকিব, সিয়াম ও মারুফকে গ্রেপ্তার করে। ১৬ ও ১৭ জুন রাতে আসামিরা ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে তারা জানায়, শিশু নিছা মনিকে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে ডেকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় তারা। সেখানে চারজন মিলে ধর্ষণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে কংস নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিছা মনির বাবা-মা। তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী।