দেলদুয়ারে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষর্ণে ছয় জনের যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে এক গৃহবধূকে (২৩) জোরপূর্বক অপহরণের পর দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় ৬ আসামির সবাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত প্রতিটি আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে; জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আ ন ম ইলিয়াস আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- দেলদুয়ার উপজেলার মঙ্গলহোড় গ্রামের রাজন মিয়া, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পয়লা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. আমির হামজা, কালিহাতী উপজেলার পৌলি এলাকার আল আমিন, দেলদুয়ারের পাথরাইল এলাকার বিপ্লব মিয়া, মঙ্গলহোড় মধ্যপাড়া এলাকার মো. রিফাত এবং একই এলাকার আব্দুর রউফ।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভুক্তভোগী গৃহবধূ দেলদুয়ার থানাধীন এলাকায় অবস্থিত তাঁর ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে ফুফুর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন তিনি।

ওই দিন রাতে মাদারজানি যাওয়ার পথে পথিমধ্যে আসামিরা তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি টেক্সটাইল মিলের (মোহন টেক্সটাইল) খালি অফিসকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে আসামিরা তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন এবং সঙ্গে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন।

ধর্ষণের ঘটনার পর ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চাইলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। পরদিন ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে দেলদুয়ার থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে দেলদুয়ার থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আজিজুল হক হাওলাদার তদন্ত শেষে আসামিদের অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু জানান, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এ রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পরপরই সাজা পরোয়ানামূলে দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামিকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।