নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে তাকে মারধর ও তার হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার বেলা একটায় উপজেলা পরিষদ চত্বরের চতুর্থ তলায় শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রউফের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রাসেল জানান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চারজনের বিরুদ্ধে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করেছেন বলে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আজম খান জানিয়েছেন।
ওসি জানান, ওই মামলার এজাহারে সরকারি কাজে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনা বিবরণীতে আব্দুর রউফ জানান, তিনি নিজ কার্যালয়ে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এসময় প্রথমে দুইজন এবং পরে আরও দশজন তার রুমে ঢুকে পড়েন। তারা কি বলতে চান জিজ্ঞাসা করতেই তার হাত ধরে তারা বলেন, ‘তোর হাত কেটে নিয়ে যাওয়ার হুকুম আছে, এমপি সাহেবের হুকুম আছে।’
শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘আকস্মিক এ ঘটনায় আমি হতবিহ্বল হয়ে পড়ি। ফলে কোন এমপি, সেটা জিজ্ঞেস করার মত অবস্থায় ছিলাম না। এরপর তারা আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এরই মধ্যে কয়েকবার বলে, এই মেশিনটা বের কর, ওকে একদম শেষ করে দিবো।’
তিনি বলেন, ‘আমার টেবিল তছনছ করে কাগজপত্র ছুড়ে ফেলে দেয়। ক্যালেন্ডার জোরে ছুড়ে মারলে মাথায় লাগে। তখন আমার অফিসের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিলো; ওদের আরও লোকজন বাইরে ছিলো। তারা একাধিকবার আমার হাত কেটে নিতে চাইছে।’
কী কারণে তারা এমন আচরণ করছেন বার বার জিজ্ঞেস করলে তারা ইসলামপুর মালিপাড়া ফাজিল মাদ্রাসায় নিয়োগের বিষয়ে বলেন বলে জানান আব্দুর রউফ। তখন ‘আমি বার বার বোঝানোর চেষ্টা করছি, এতে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই’, বলেন তিনি।
সরেজমিনে আব্দুর রউফের কার্যালয়ে গিয়ে ভেতরে কাগজপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। কাউকে চিনতে পারছেন কি-না জানতে চাইলে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, তিনি তাদের ‘মুখ চেনেন’, কিন্তু নাম ‘জানেন না’। এলাকায় ‘একাধিকবার’ দেখেছেন বলেও জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিরা হলেন রুবেল আলী (৩৫), জামালউদ্দিন (৩০), জহিরউদ্দিন (২৭) ও শামসুউদ্দিন (২৫)।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক কর্মী জানিয়েছেন, নাটোর-৪ আসনের এমপি সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর অনুসারী রুবেল আলীসহ কয়েকজন আব্দুর রউফকে লাঞ্ছিত করেন।
আসামিদের মধ্যে জহিরউদ্দিন, এমপি সিদ্দিকুর রহমানের ভাগ্নে বলে পরে জানা যায়। যদিও এ ব্যাপারে পুলিশ কিছু জানাতে পারে নি।
এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকা আছি। এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।’
সিদ্দিকুর রহমান চলতি বছরের ১১ অক্টোবর নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রাসেল জানান, তিনি খবর পেয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। অফিস চত্বরের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে জড়িতদের সনাক্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় জড়িতরা যত বড় ক্ষমতাবান হোক না কেন, কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন ইউএনও।