এবারও স্পেশাল ট্রেনে চড়ে আসবে রাজশাহীর আম

কয়েকদিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে আম মৌসুম। বছরের এই সময়টিতে রাজশাহীর আমের চাহিদা থাকে সারাদেশের মানুষের মধ্যে। ভরা মৌসুমে ভোক্তার কাছে সতেজ আম পৌঁছে দিতে ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় আম পরিবহনে। তাই আম পরিবহনে রেলপথ ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের আগ্রহী করতে আগেভাগেই উদ্যোগ নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এবার পঞ্চমবারের মতো থাকছে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন।

এবার এই ট্রেন চালানো হবে পদ্মা সেতু দিয়ে। ১০ জুন এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর থেকে বিকেলে চারটায় ছেড়ে রাত সোয়া দুইটায় ঢাকায় পৌঁছাবে। এই ট্রেনে আম পরিবহনে প্রতি কেজিতে খরচ হবে মাত্র এক টাকা ৪৮ পয়সা।

শনিবার রাজশাহী বিভাগ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা আম পরিবহনের এক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়। 

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মো. মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, বিভিন্ন জেলার প্রশাসক, রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে জানানো হয়, ছয়টি লাগেজ ভ্যানের মাধ্যমে আম পরিবহন করা যাবে ২৮ দশমিক ৮৩ টন। তবে এবার ট্রেন যাবে পদ্মা সেতু হয়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর স্টেশন থেকে প্রতিদিন বিকেল চারটায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এই ট্রেন। 

যাত্রা পথে রহনপুর স্টেশন থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, আব্দুলপুর, ঈশ্বরদী, পোড়াদহ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও ভাঙ্গাসহ মোট ১৫টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন। এই ট্রেন ঢাকায় পৌঁছাবে রাত দুইটা ১৫ মিনিটে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি আম পরিবহনে ভাড়া লাগবে এক টাকা ৪৮ পয়সা, রাজশাহী থেকে এক টাকা ৪৩ পয়সা, পোড়াদহ থেকে এক টাকা ১৯ পয়সা, রাজবাড়ী থেকে এক টাকা সাত পয়সা, ফরিদপুর থেকে এক টাকা এক পয়সা এবং ভাঙ্গা থেকে মাত্র ৯৮ পয়সা।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, খরচ কম হলেও রেলে আম পাঠানোয় ভোগান্তি বেশি। ট্রেনে খুব কম খরচে আম পরিবহন করা গেলেও বারবার ওঠানামা করার কারণে ঝামেলা বেশি হওয়ায় সড়কপথ ও কুরিয়ারকে বেছে নেওয়া হচ্ছে। 

তাদের দাবি, আম পরিবহনে রেলকে জনপ্রিয় করতে হলে বুকিং সহজিকরণ, যাত্রা সময় সীমিতসহ ভোক্তার কাছে নিরাপদে আম পৌঁছানোর মতো বিষয়গুলো আগে নিশ্চিত করতে হবে।

যদিও আম পরিবহনে রেলকে জনপ্রিয় করে তুলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম।

তিনি বলেন, আম ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের পরামর্শ আমলে নিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় আম পৌঁছে দিতে বেশি সংখ্যক স্টেশনে আম নামানোর ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনে কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর সঙ্গে যৌথ চুক্তির মাধ্যমে এই সেবা নিশ্চিত করা হবে। 

এর আগে গত বছর তিন দফা সময় পরিবর্তন করে ৯ জুন চালু হয় ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন। ওই দিন সাতটি ওয়াগণ নিয়ে রহনপুর থেকে বিকেল চারটায় ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এরপর ১৪টি স্টেশন থেকে আম নেয় ট্রেনটি।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চার বছরে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনে তিন হাজার ৯৯৫ টন আম পরিবহন করা হয়েছে। এ থেকে রেলের আয় হয়েছে ৪৬ লাখ ২৯ হাজার ১৪০ টাকা।

গত চার বছরে ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী হয়ে ঢাকায় যাওয়া-আসা করতে তেল খরচ হয়েছে ৯২ লাখ ৯১ হাজার টাকা। ফলে এ কয়েক বছরে ট্রেনের লোকসান হয়েছে ৪৬ লাখ ৬১ হাজার ৮৬০ টাকা।

২০২০ সালের পাঁচ জুন থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত ৪৬ দিন চলেছে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন। ওই বছর ট্রেনে এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন আম পরিবহন করা হলেও কোরবানির পশু পরিবহন হয়নি। 

২০২১ সালের ২৭ মে থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ৫০ দিন চলেছিল ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন। ওই বছর দুই হাজার ২৩৫ মেট্রিক টন আম পরিবহন করা হয়েছিল। 

২০২২  সালের ১৩ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সাত দিন চলে এ স্পেশাল ট্রেন। ওই বছর ১৭৯ মেট্রিক টন আম, ৩৬টি গরু ও ১৬০টি ছাগল পরিবহন করা হয়। 

২০২৩ বছর ৯ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত ১৮ দিন স্পেশাল ট্রেন চলেছে। ওই বছর ৩৮২ মেট্রিক টন আম পরিবহন করা হয়।