রাজশাহীর বাঘায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুলকে হত্যার ঘটনায় মুখোমুখি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান (লিটন)।
এরইমধ্যে মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন শাহরিয়ার আলম। মামলায় মদদদাতা হিসেবে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহন) আসনের সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান, বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিনকেও আসামি করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে বাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আশরাফুল ইসলাম বাবুলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে নিজ গ্রাম গাওপাড়া এলাকায় পারিবারিক গোরস্থানে বাবা আমির হোসেন আমুর কবরের পাশে তাকে শায়িত করা হয়।
শাহরিয়ার আলমের এমন বক্তব্যে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে উত্তাপ দেখা দিয়েছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
শাহরিয়ার আলম বলেন, আমরা জবাব চাই, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের কাছে। অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলুর কাছে জবাব চাই, সে কেনো আজ পলাতক? খুনের মামলায় দু’জন সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। পেছন থেকে মদদদাতা হিসেবে আসাদুজ্জামান আসাদ, এএইচএম খায়রুজ্জামান এবং লায়েব উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা হবে। তাদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণাও দেন শাহরিয়ার।
এদিকে শাহরিয়ারের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি বলেছেন, জানাযায় তার নাম ধরে এলাকার বর্তমান এমপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ঈর্শাপরায়ণভাবে এরকম উক্তি করতে পারেন, সেটা তার বোধগম্য নয়। তার কাছ থেকে এটা আশাই করিনি। কী উদ্দেশ্যে, কেন তিনি বলেছেন তা তিনিই বলতে পারবেন। যারা বিবেকসম্পন্ন মানুষ তারা এটাকে সমর্থন করবেন না।
২২ জুন (শনিবার) বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে থানার ওসিসহ অন্তত ৫০ নেতা-কর্মী আহত হন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা চত্বরের ভেতর থেকে আশরাফুল ইসলামকে উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ ছিলো।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেল মারা যান আশরাফুল ইসলাম। রাতেই ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাঘায়। পরে বৃহস্পতিবার জানাজা শেষে দুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল ওয়াদুদ, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী অংশ নেন।