চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া ও রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনায় টানা চতুর্থ বারের মতো বিজিবি-বিএসএফের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সূত্রের খবর, পরে অনুমতি ছাড়া সীমান্তে বেড়া ও রাস্তা নির্মাণ করবে না বলে সম্মত হয়েছে বিএসএফ। তারপর থেকেই সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। চলছে বিজিবির নিয়মিত ও সর্তক অবস্থায় টহল। আর বর্ডারে নজর রাখছে সীমান্তবাসীও।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, বিজিবি-বিএসএফের সর্বশেষ সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠকের পর বিরোধপূর্ণ এক হাজার ২০০গজ কাঁটাতারের বেড়াবিহীন সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সীমান্তের ওপারেও বিএসএফ সদস্যও নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। বাড়তি সব জেয়ায়ানকে প্রত্যাহার করেছে উভয় দেশ। তবে বাংলাদেশ অংশে সীমান্ত এলাকার কিছু দুরে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সীমান্ত এলাকায় ভিড় এড়াতে কাজ বিজিবির সদস্যরা এবং বিভিন্ন স্থান থেকে আগত জনসাধারণকে ফিরিয়ে দিচ্ছে।
অন্যদিকে ভারতীয় অংশে কোনো সাধারণ নাগরিককে দেখা যায়নি।
মনাকষা ইউনিয়নের সাবেক ওয়ার্ড সদস্য সোমির উদ্দিন বলেন, এখন সীমান্তের অবস্থা ভালো। বিএসএফ রাস্তা ও কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণ বন্ধ রেখেছে। ছুটির দিন হওয়ায় উৎসুক জনতা ভিড় জমাচ্ছে। বিএসএফ বার বার পতাকা বৈঠকের পরও বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করায় সীমান্তবাসী বিএসএফকে বিশ্বাস করতে পারছেনা। আর তাদের নজর সীমান্তের দিকে।
বর্ডার এলাকার কৃষক ফরুল ইসলাম বলেন, ভারতের বিএসএফ জিরো পয়েন্টে বেড়া দেবে, কিন্তু বিজিবি দিতে দিবে না। এই নিয়ে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল, যা মিটে গেছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা বিজিবির টহল টিমের অতিরিক্ত সদস্য দেখতে পাচ্ছি না এখন। আগে যেমন স্বাভাবিক টহল দিতো, তেমনই স্বাভাবিক টহল দিতে দেখছি।
বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. কামাল উদ্দীন বলেন, সীমান্ত এলাকা এখন স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। কোনো উত্তেজনা নাই। বিজিবির সদস্যদের নিয়মিত টহল দিতে দেখছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি একেবারেই স্বাভাবিক রয়েছে। এর আগে গত বুধবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে পতাকা বৈঠক হয়। সীমান্তে আপাতত বিএসএফ রাস্তা বা কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিশেষ করে চৌকা সীমান্তে সর্তকভাবে বিজিবি তার নিয়মিত টহল পরিচালনা করছেন।