রাজশাহীগামী বাসে ডাকাতি ও দুই নারী শ্লীলতাহানির ঘটনায় অভিযোগ না নেওয়াসহ দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নাটোরের বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলামকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিরাজুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়।
নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় সেবা নিতে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পায়নি। এ কারণে তাকে প্রত্যাহার করে নাটোর পুলিশ লাইন্সে নেওয়া হয়েছে। তার দায়িত্বে অবহেলার আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছি। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের ভেতরে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারবো।
গত সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইউনিক রোড রয়েলসের ‘আমরি ট্রাভেলসের’ একটি বাসে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
যাত্রীদের ভাষ্য, রাত ১১টায় ঢাকার গাবতলী থেকে বাস ছাড়ে। রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে বাসে ডাকাতি শুরু হয়। তিন ঘণ্টা ধরে ডাকাতি শেষে ঘুরিয়ে একই জায়গায় বাসটি নিয়ে গিয়ে রাত তিনটা ৫২ মিনিটে ডাকাতেরা নেমে যায়।
এরপর বাসের চালক, তার সহকারী ও সুপারভাইজার নানা টালবাহানা করতে থাকেন। তারা বলেন, গাড়িতে তেল নেই। অবশেষে যাত্রীদের চাপের মুখে পড়ে তারা রাজশাহীর উদ্দেশে বাস ছাড়েন। যাত্রীরা প্রথমে বাসটি নিয়ে মামলা করার জন্য টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় যান। সেখানে তখন ওসি ছিলেন না বলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার পরে বাসটি বড়াইগ্রামে থানায় ঢোকানো হয়।
ডাকাতির ঘটনায় বাসের সুপারভাইজার, চালক ও চালকের সহকারীকে আটক করে পুলিশ। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান।
নাটোরের বড়াইগ্রাম আমলি আদালত সূত্রে জানা যায়, বড়াইগ্রাম থানার এসআই শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চালানমূলে ঢাকা-রাজশাহী চলাচলকারী ইউনিক রোড রয়েলস বাসের চালক বাবলু ইসলাম (৩৫), চালকের সহকারী সুমন ইসলাম (৩৫) ও সুপারভাইজার মাহবুব আলমকে (৩৮) বুধবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় তাদের আদালতের সামনে হাজির করলে আদালত শুনানি শেষে জামিনের আদেশ দেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ওই বাসের যাত্রী বড়াইগ্রাম উপজেলার ওমর আলী বাদি হয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা (নং-১৭, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন) করেছেন বলে জানিয়েছেন মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন।