পাইলট তৌকিরের মৃত্যু, পরিবারের উচ্ছ্বাস পরিণত শোকে

উত্তরায় প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে নিহত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগরের বাড়ি রাজশাহীতে চলছে শোক। এমন অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর ঘটনা শোকে পাথর হয়ে গেছেন স্বজনরা। ঘটনার পর থেকেই তার বাড়িতে ভিড় করছেন তারা। দুর্ঘটনার খবর দ্রুত পেলেও, সবাই আশায় ছিলেন তাদের প্রিয় ছেলে হয়তো বেঁচে আছেন। 

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আশা পরিণত হয় ভাষা হারানো শোকে। তার আগেই সোমবার বিকেলে তৌকিরের বাবা মা’সহ কয়েকজনকে বিমান বাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে ঢাকায় নেয়া হয়। বাড়িতে থাকা অন্যান্য স্বজনরা জানান, তৌকিরের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ছিলেন তারা। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাস রূপ নিয়েছে বিষাদে। 

উত্তরাঞ্চলের রাজধানী হিসাবে ক্যাত রাজশাহীর উপশহর তিন নম্বর সেক্টরের আশ্রয় ভবনে ভাড়া বাসায় থাকতেন নিহত বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগরের পরিবার। তার বাবা তহুরুল ইসলাম, মা সালেহা খাতুন, বোন সৃষ্টি ও বোন জামাই থাকতেন এই বাসায়।

সাগরের মৃত্যুর খবরে এখন শোক বইছে এই পরিবারে। ঘটনার পর থেকে স্বজনরা ভিড় করছেন তৌকিরের বাড়িতে। তারা জানান, সাগর প্রথমবার একা প্রশিক্ষণ বিমান চালাবেন এই খবরে উচ্ছ্বসিত ছিলো পুরো পরিবার। কিন্তু দুপুরের পর বিমান বিধ্বস্তের খবর পেয়ে হতবাক হয়ে পড়েন। 

এরপর খবর মেলে সাগর ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন আছেন। পরে তৌকিরকে দেখতে যেতে চাইলে বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে বিকেলে বাবা মা বোন ও বোনের স্বামীকে বিশেষ হেলিকপ্টারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তৌকিরের মামা জানান, ঢাকায় যাবার আগ পর্যন্ত বাবা মাকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। 

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগরের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট এলাকায়। আর তিনি রাজশাহী ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। পরে পাবনা ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হন। এক বছর আগে তিনি ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিককে বিয়ে করেন। 

সোমবার দুপুরে উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।