পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ। পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম স্থাপন বা লোডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্বে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে এই ঐতিহাসিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এটি দেশের কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এক বড়ো মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে আসা ইউরোনিয়াম রূপপুরে প্রবেশ করে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি কমিশন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এদিন দুপুর আড়াইটায় অতিথিদের আসন গ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। বিকেল সাড়ে তিনটায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রতিনিধি ও রুশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, সকালে রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ জনের প্রতিনিধিদল নিয়ে রাশিয়া থেকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান। ঢাকায় নেমে তিনি প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় হেলিকপ্টারে রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছান।
প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বালানি লোডিংয়ের পর পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। শুরুতে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় (১২০০ মেগাওয়াট) পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) প্রথম ইউনিটের কার্যক্রম শুরুর লাইসেন্স এবং ৫২ জন বিশেষজ্ঞের অনুমোদন দেয়। কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে আগের নির্ধারিত সময় কিছুটা পিছিয়ে আজ নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিলো।
ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এই মেগাপ্রকল্প। এখানে দুটি ইউনিট থেকে মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো একক প্রকল্প।