চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা—এই তিন নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বন্যা কবলিত নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের কষ্ট কমেনি। জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ টানা প্রায় ২০ দিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় আছেন। বন্যাকবলিত এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পানি উঠে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি ছয় সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে মহানন্দার পানি এক সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার দেড় মিটার এবং পুনর্ভবা নদীর পানি চার সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ২.৩ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, তিনটি নদীর পানিই এখন ধীরগতিতে কমতে শুরু করেছে। নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত না হলেও নিম্নাঞ্চলের জলবন্দী মানুষকে আরও কিছুদিন দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, তলিয়ে গেছে ফসল
এদিকে টানা ২০ দিনের বন্যায় সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতুলি এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, উজিরপুর ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকার বসতবাড়ি ও আঙিনায় পানি জমা থাকায় প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার ভোগান্তিতে রয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছে। মানুষের থাকার জায়গার পাশাপাশি গবাদিপশুর আশ্রয় ও খাদ্যের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সদরে ১২৪.৬ হেক্টর, শিবগঞ্জে ৭৬.৮ হেক্টর ও গোমস্তাপুরে ৫ হেক্টরসহ মোট ২০৬.৪ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে আউশ ও আমন ধান, মাসকলাই, শাকসবজি, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা, মরিচ, হলুদ, পেঁপে ও কলা।
অপরদিকে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি উচ্চবিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসাসহ মোট ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় বিকল্প উপায়ে উঁচু স্থানে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা চলছে।
প্লাবিত এলাকাগুলোতে সুপেয় পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সঙ্গে চর্মরোগ ও ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।
পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় তিন হাজার মানুষ পানিবন্দী। ইতিমধ্যেই ৪৬৬টি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখার দাবি জানান তিনি।
নারায়ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন ও আলাতুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, তাদের এলাকায় যথাক্রমে ৭-৮ শত এবং ৫০০ পরিবার জলবন্দী। ত্রাণ বিতরণ চললেও নদীভাঙন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আতঙ্ক কাটেনি।
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী জানান, সরকারি হিসাবে জেলার পাঁচ ইউনিয়নের দুই হাজার ৯০০ পরিবার সরাসরি পানিবন্দী। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ২৯ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বিতরণ কাজ চলছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।