একটি দেশের ভয়ে তিস্তা প্রকল্পে সরকারের গড়িমসি: আজহারুল

ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই বর্তমান সরকার জনগণের দাবি-দাওয়া উপেক্ষা করছে বলে অভিযোগ করেছে ১১ দলীয় জোট। আরও অভিযোগ, একটি দেশের ভয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করছে। 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়ার একটি হোটেলে ১১ দলীয় জোটের ‘ঢাকা টু রংপুর’ লংমার্চ সফল করার লক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম।

সাংবাদিক সম্মেলনে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সংসদে এটি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে কাজ অত্যন্ত স্লো গতিতে চলছে। আমাদের কানে আসে, কোনো এক দেশের ভয়ে এই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করছে।

সরকারকে হুঁশিয়ার করে জামায়াত নেতা বলেন, চব্বিশের পাঁচ আগস্ট বাংলাদেশ নতুন করে স্বাধীন হয়েছে। যারা অন্য দেশের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশকে শাসন করতে চেয়েছিলো, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। ১৮ কোটি মানুষের ওপর আস্থা না রেখে কোনো দেশের ভয়ভীতিতে ভীত হয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেবেন না। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করুন, আমরা আপনাদের পাশে থাকবো।

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এটিএম আজহারুল বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে সব রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে একই সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশবাসী প্রায় ৬৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’-র পক্ষে ভোট দিয়ে রায় দেয়। কিন্তু বিএনপি এক-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করেছে। বিরোধী দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপি সেই শপথ নেয়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সরকারের গত ছয় মাসের শাসনামলে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সঙ্কট প্রকট হয়ে উঠেছে দাবি করে তিনি বলেন, সংসদে সঙ্কট মোকাবিলায় বিরোধী দলের সহযোগিতার প্রস্তাবও সরকার গ্রহণ করেনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের ভাষা বুঝতে না পারলে আপনাদের পরিণতিও পতিত স্বৈরাচারের মতো হবে।

চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম দফার লংমার্চ সফল হওয়ার পর আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ‘ঢাকা টু রংপুর’ লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি। ওই দিন সকাল আটটায় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে রংপুরে গিয়ে শেষ হবে। পথে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এবং বগুড়ার মাটিডালিতে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।

সংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান, জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, নওগাঁ জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবু সায়েম, এলডিপির বগুড়া জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান এবং এনসিপির আহবায়ক প্রকৌশলী সায়েম মাহমুদসহ জোটের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।