পাবনায় স্কুলছাত্রী কলি হত্যায় মূলহোতা গ্রেপ্তার, ফাঁসির দাবি

পাবনা সদর উপজেলার কুলোনিয়ায় দশ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী কামরুন নাহার কলি হত্যার ঘটনায় মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

হত্যাকাণ্ডের শিকার কলি সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে সে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের সাত দিন পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজ বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার খণ্ড-বিখণ্ড বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার দিনই প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার এক ভাড়াটিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মোস্তফাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম বলেন, মোস্তফা প্রামাণিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। ফলে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অপর আটককে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া শিশুটিকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিলো কি না—তা এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না, তদন্ত প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে এই নৃসংশ হত্যা ও সম্ভাব্য ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পাবনা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন। মানববন্ধনে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা অংশ নেন।

‘কলি হত্যার বিচার চাই’, ‘বেঁচে থাকার অধিকার চাই’, ‘শিশু অধিকার আইন বাস্তবায়ন চাই’—ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবোধ শিশুটিকে হত্যার আগে নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইনশৃঙ্খলার শিথিলতার কারণেই এ ধরনের অপরাধ বারবার ঘটছে। পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের সহ্যক্ষমতার বাইরে যাওয়ার আগেই এই নারকীয় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান তারা।