লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১২ জন নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সতর্ক অবস্থান ও তীব্র বাঁধার মুখে বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ওই ১২ জন সীমান্ত সংলগ্ন ভারতীয় অংশে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।
লালমনিরহাটের ৬১ বিজিবি (তিস্তা ব্যাটালিয়ন) ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে বুড়িমারীর বামনদল সীমান্তের ৮৩৮/১ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে বিএসএফ সদস্যরা অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা চালায়।
এ সময় বিএসএফের সাথে দুজন নারী, দুই শিশু এবং আটজন পুরুষ সদস্য ছিলেন, যাদের জোর করে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
ঘটনার তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে ৬১ বিজিবির একটি ক্ষিপ্র টহল দল দ্রুত ওই সীমান্ত এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করে এবং বিএসএফকে কঠোর ভাষায় বাধা দেয়। বিজিবির এমন অনড় ও শক্ত প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ তাদের পুশ ইনের চেষ্টা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুশ ইন ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে ওই ১২ জন ব্যক্তি জিরো লাইন থেকে প্রায় ১০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে। সীমান্তে পুনরায় যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা অবৈধ অনুপ্রবেশ না ঘটে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি, টহল ও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে লালমনিরহাট ৬১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. শাহিনুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, যেহেতু ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, তাই তাদের পরিচয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। আটকে থাকা দলের মধ্যে ৮ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ২ জন শিশু রয়েছে।
লে. কর্নেল মো. শাহিনুল ইসলাম আরও স্পষ্ট করে বলেন, বিজিবির সতর্ক পাহারার কারণে পুশ ইনের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক ডাকা হয়েছে। ফ্ল্যাগ মিটিং সম্পন্ন হওয়ার আগে তাদের নাগরিকত্ব ও পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।