নীলফামারীর গুরুত্বপূর্ণ দারোয়ানী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনের যাত্রাবিরতির (স্টপেজ) সুনির্দিষ্ট দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেছেন হাজারো স্থানীয় বাসিন্দা। বুধবার সকাল ৯টা থেকে দারোয়ানী টেক্সটাইল মোড় এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়। অবরোধের কারণে চিলাহাটি-সৈয়দপুর রুটে ট্রেন চলাচল প্রায় চার ঘণ্টার জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, চিলাহাটি-সৈয়দপুর রেলপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলো দারোয়ানী। পাশেই উত্তরা ইপিজেডসহ বেশ কয়েকটি বড় শিল্পকারখানা থাকায় এই অঞ্চলের গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায়, চড়াইখোলা ও কুন্দপুকুর ইউনিয়নের হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ী প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ স্টেশনে ট্রেনের নিয়মিত স্টপেজ না থাকায় স্থানীয়দের যাতায়াতে দুর্ভোগের শেষ নেই, এমনকি ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহনে গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ।
বুধবার সকালে দারোয়ানী টেক্সটাইল এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হন হাজারো নারী-পুরুষ। তারা মানববন্ধন ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। অবরোধ চলাকালে চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা রকেট মেইল ট্রেনটি দারোয়ানী স্টেশনেই আটকে পড়ে। অন্যদিকে খুলনাগামী আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেস আটকা পড়ে নীলফামারী স্টেশনে। ফলে সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী ও বিরামপুরগামী সহস্রাধিক ট্রেনযাত্রীকে চরম গরম ও সময়ের অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়।
খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ, সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং নীলফামারী স্টেশন মাস্টার দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ঊর্ধ্বতন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত যাত্রাবিরতির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
প্রশাসনের এই ইতিবাচক আশ্বাসের প্রেক্ষিতে প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এরপরই অবরুদ্ধ ট্রেনগুলো একে একে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয় এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। নীলফামারীবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করবে এবং দারোয়ানী স্টেশনে কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালুর মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করবে।