মাত্র আট কিলোমিটার নদী খননে এবার বন্যা থেকে রক্ষা পেলো সিলেট শহর। পুরো সুরমা নদী খনন হলে সিলেট শহর পুরোপুরি বন্যা মুক্ত হবে বলে আশার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আশ্বাস দিলেন, সিলেট জেলাকে বন্যা মুক্ত করতে ধাপে ধাপে সুরমা নদী খনন করা হবে।
শীত মৌসুমে সুরমা নদী শুকিয়ে পরিণত হয় নালায়, আর বর্ষায় নেয় রুদ্র রূপ। যা সিলেটের মানুষ দেখেছে গেল বন্যায়। নদীর গভীরতা কমে আসায় পানি ঢুকে পড়ে শহরে। এক বছরে দুদফা বন্যায় পুরো সিলেট শহর তলিয়ে যায়।
এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে এ বছর জানুয়ারিতে শুরু হয় নদী খনন। প্রায় ১৬ কিলোমিটার এই খনন প্রকল্পের মধ্যে অর্ধেক কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এতে নাব্য ফিরে পেয়েছে সুরমা নদী। নদী পাড়ের মানুষ বলছেন, নাব্য ফিরে আসায়, এবারের বর্ষায় রক্ষা পেয়েছেন তারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী জানান, আগামী জানুয়ারিতে শেষ হবে সুরমা নদীর পুরো খনন কাজ। এরই মধ্যে নদীর যে অংশের নাব্য ফিরেছে, সে অংশের ছড়াখাল গুলোর মুখে জাল বেঁধে রাখার পরামর্শ তার।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমদ বলেন, সিলেট সদরের অংশটায় পলিথিন থাকায়, ড্রেজারগুলো চললেও পলিথিনে বেঝে একটু সমস্যা হচ্ছে। সামনের বছর জুন পর্যন্ত প্রজেক্টের মেয়াদ আছে। আমরা আশা করছি ডিসেম্বর জানুয়ারির মধ্যে শেষ করে ফেলতে পারবো। আর প্রকল্পটা শুরু করার পরই, সুনামগঞ্জের ওইদিকটাই যে পানিটা নামতো না, সে পানিটা ইদানীং নেমে যাচ্ছে। বালি এবং ময়লা আবর্জনা তুলে ফেলাতে পানি অপসারণে এখন কোনো সমস্যা হচ্ছেনা।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে পুরো সুরমা নদী খনন হবে। আর ভারতের নদীর স্লুইস গেইট ছাড়ার আগে বাংলাদেশকে জানানো হবে। তাই সিলেটসহ সমগ্র দেশে আকস্মিক বন্যার আর শঙ্কা নেই।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ওদের সাথে আমাদের এই সম্পর্কটা ডেভেলপ করেছে। ওরা জানাবে। তার ফলে আমরা আকস্মিকভাবে বন্যা হয়তো দেখবো না। তবে ড্রেজিং কমপ্লিট করা প্রয়োজন। ড্রেজিং না হলে পানি যাবে কোথায়? আমি সিলেটবাসীকে অনুরোধ করবো, আপনারা এই পুকুর, জলাশয় যত্রতত্র ভর্তি করবেন না। পানি রাখার আধারগুলো রাখেন। কারণ এগুলো প্রয়োজন।
তবে শুধু সুরমা নয়, ধীরে ধীরে সিলেটের সব নদী খনন করার দাবি সাধারণ মানুষের।