সিলেটে বন্যার উন্নতি, দুর্গতদের পাশে নেই কেউ

বৃষ্টি এবং ভারতের মেঘালয় থেকে পাহাড়ি ঢল কমে যাওয়ায় সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ। এখনও সিলেট শহরে নিচু এলাকার পানি কমেনি। বন্যা দুর্গতদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত তাদের পাশে কেউ দাঁড়ায় নাই।

পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের পানি ধীরে ধীরে কমতে থাকায় দৃশ্যমান হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি। পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, লোভা, ধলাই ও পিয়াইন নদীপারের বাসিন্দাদের বাড়ি ঘর, রাস্তা ঘাট। 

রোববার সরেজমিন, জৈন্তাপুর উপজেলায় বন্যার পানিতে ঘর ও জিনিস পত্র নষ্ট হয়ে এখন সাহায্যের হাত পেতেছেন অসহায় মানুষ।

বন্যার্ত কয়েকজন বলেন, বাড়ি-ঘর সব কিছু ভেসে গেছে। একই অবস্থা সিলেটের সীমান্তবর্তী অন্য সব উপজেলার মানুষের। ঘরবাড়ি- গবাদি পশু সবই পানির স্রোতে ভেসে গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আমরা এমন দুর্যোগের মধ্য থাকলেও এখনও কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি।

এদিকে, সিলেট নগরে এখনও পানিবন্দি তিন হাজার মানুষ। শহরের কিছু এলাকার পানি নামতে শুরু করলেও বেড়েছে দুভোর্গ। ময়লা পানি মাড়িয়েই চলাচল করছেন নগরবাসী। তাদেরও একই অভিযোগ, এই দুর্যোগে কেউ পাশে নেই।  

নগরবাসীরা জানান, বন্যার পানিতে সবারই  বাড়ি-ঘর ডুবে গেছে। বিশেষ করে সবার বাড়ির নিচতলা ডুবে গেছে। পানি কমতে থাকায় দুর্গন্ধ বেড়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, শনিবার রাত থেকে মেঘালয়ে বৃষ্টি হয়নি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

এদিকে সিলেটের বিয়ানীবাজারে কুশিয়ারা নদীর পাশে ডাইক ভেঙে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার বেশকিছু এলাকা। 

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম বলেন, ভেঙে যাওয়া স্থান মেরামতের কাজ চলছে। এছাড়া বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেরামতের কাজ যেন করা হয়ে সেজন্য দৃষ্টি দিতে বলা হয়েছে। 

সিলেটে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি চারটি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে, সিলেট পয়েন্টে শনিবারের চেয়ে পানি কমেছে চার সেন্টিমিটার।