সুরঞ্জিত সেনের সভায় গ্রেনেড হামলা: নির্দোষ দাবি আরিফুল, গউছ ও বাবরের

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় গ্রেনেড হামলা মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে হাজির হয়ে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

একই মামলায় একই দিন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকেও আদালতে হাজির করা হয়। আদালত আগামী ২১ এপ্রিল মামলার যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

আদালতে ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা (জবানবন্দি গ্রহণ) করার সময় আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছ ও লুৎফুজ্জামান বাবর এই মামলাকে ‘মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন।

শুনানিতে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনকালে হুইপ জি কে গউছ বলেন, কেবল বিএনপি করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এই মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলার কারণে আমি ২৬ মাস নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমি মামলার বাদির শাস্তি দাবি করছি।

দুপুর ১২টার দিকে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ অন্যরা আদালত চত্বরে পৌঁছান। এ সময় বিপুলসংখ্যক আইনজীবী ও দলীয় নেতাকর্মী তাদের ঘিরে রাখেন। আদালতের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়। শুনানিতে সিলেট জেলা পিপি আশিক উদ্দিন ও মহানগর পিপি বদরুল আলম চৌধুরীসহ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অংশ নেন।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি আবুল হোসেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী এ টি এম ফয়েজ জানান, মামলার রায়ের আগে নিয়ম অনুযায়ী ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা করা হয়েছে। তারা সশরীরে হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য দিয়েছেন।

২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে আওয়ামী লীগের একটি সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় একজন নিহত এবং ২৯ জন আহত হন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অল্পের জন্য রক্ষা পান। ঘটনার পর দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী ও জি কে গউছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এই মামলায় মোট ১২৩ জন সাক্ষী রয়েছেন। মামলাটি এখন যুক্তিতর্ক ও রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।