সরকারি দর ১৪৪০, অথচ নিরুপায় কৃষক ধান বেচছেন ৬০০ টাকায়

সুনামগঞ্জে সরকারিভাবে এক হাজার ৪৪০ টাকা মণ দরে ধান সংগ্রহ শুরু হলেও এর সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ কৃষক। অতিবৃষ্টিতে ফসল হারিয়ে এবং রোদের অভাবে ধান শুকাতে না পেরে দিশাহারা প্রান্তিক চাষীরা চারা গজিয়ে যাওয়া ও রঙ নষ্ট হওয়া ধান পাইকারদের কাছে মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। একদিকে বৈরী প্রকৃতি, অন্যদিকে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধের চাপে পানির দরে ধান বিক্রি করে নিঃস্ব হচ্ছেন হাওরাঞ্চলের অর্ধলক্ষাধিক কৃষক।

সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে কৃষকেরা কিছু ধান কেটে আনলেও বিপত্তি বেধেছে শুকানো নিয়ে। কয়েক দিন ধরে রোদ না থাকায় ভেজা অবস্থায় পড়ে থেকে খলায় রাখা ধানেই চারা গজিয়ে যাচ্ছে। এতে ধানের মান ও রঙ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বড়ো ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক।

মাঠ পর্যায়ের কৃষকেরা জানান, ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি পরিশোধের জন্য তাদের হাতে নগদ টাকা নেই। বাধ্য হয়ে তারা ভেজা ধান বাজারে তুলছেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পাইকার ও মুনাফাখোর একটি চক্র সিন্ডিকেট করে মাত্র ৬০০-৭০০ টাকা দরে ধান কিনে নিচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি দরের চেয়ে অর্ধেকেরও কম দামে ধান বিক্রি করতে হওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না।

এদিকে রোববার (৩ মে) থেকে সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু করেছে খাদ্য বিভাগ। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কর্মকর্তা বি.এম মুশফিকুর রহমান জানান, এ বছর জেলায় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ এক হাজার ৪৪০ টাকা দরে মোট ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে।

তবে সাধারণ কৃষকের দাবি, সরকারি এই সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ঢুকতে না পারে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সরকারি এই বরাদ্দ সাধারণ কৃষকের কোনো উপকারে আসবে না।