আসছে ঈদুল আজহার টানা লম্বা ছুটিতে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো পর্যটকদের স্বাগত জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত। বর্ষার আবহে অপরূপ রূপ ধারণ করা সিলেটের জল-পাথরের রাজ্য, পাহাড়-মেঘের মিতালির রাঙামাটি এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে এবার লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রকৃতির আপন রূপে সেজেছে সিলেট
ভরা বর্ষায় সিলেটের সীমান্তঘেঁষা পর্যটন স্পটগুলো এখন যেন প্রকৃতির নতুন রাজ্যে পরিণত হয়েছে। ছোট-বড়ো পাথরের বুক বেয়ে নেমে আসা শান্ত সাদা জলরাশি, পাহাড়ের বুকে মেঘের ওড়াউড়ি আর সবুজের মিতালি নিয়ে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত জাফলং, ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর, উৎমাছড়া, রাতারগুল ও মায়াবী ঝরনা।
সিলেট জেলা প্রশাসন ও র্যাব জানিয়েছে, স্পটগুলোতে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সিলেট জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি মাঠে সার্বক্ষণিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
র্যাব-৯ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার মো. তাজমিনুর রহমান চৌধুরী জানান, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের সব পর্যটন স্পটে র্যাবের টহল থাকবে। এছাড়া রিসোর্ট ও হোটেলগুলোতে মাদক পাচার রোধসহ চুরি, ছিনতাই ও অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
রাঙামাটিতে বুকিংয়ের ধুম
সরকারি চাকরিজীবীদের টানা সাত দিনের লম্বা ছুটিকে কেন্দ্র করে রাঙামাটির পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা হয়ে ওঠার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। জেলার প্রধান আকর্ষণ সাজেক ভ্যালি ছাড়াও ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ, পলওয়েল পার্ক, আরণ্যক, সুবলং ঝরনা, রাঙাদ্বীপ ও লেকভিউ আইল্যান্ড এখন পর্যটকদের উপস্থিতিতে মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায়।
রাঙামাটি পর্যটন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা জানান, পর্যটকদের বরণের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ। ইতিমধ্যে আমাদের হলিডে কমপ্লেক্সের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ রুম অনলাইন ও অফলাইনে বুকিং হয়ে গেছে।
সাজেক রিসোর্ট অ্যান্ড কটেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান, ঈদের দিন সাজেকের সব রুম বুকিং রয়েছে এবং ঈদের পরের দিন থেকে পরবর্তী এক সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রুম আগাম বুকিং হয়ে আছে। এছাড়া কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমণের জন্য ট্যুরিস্ট বোটগুলো সংস্কার ও রঙের কাজ শেষ করেছেন ব্যবসায়ীরা বলে জানান নৌযান ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. ফখরুল ইসলাম।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রকিব উদ্দিন জানান, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারেন এবং কোনো হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে হেল্প ডেস্ক বসানো হয়েছে।
কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের আশা, তবে সাড়া কম
ঈদের ছুটিতে প্রতিবারের মতো এবারও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। সাড়ে ছয় হাজার বছর ধরে প্রকৃতির তৈরি করা এই বালুকাময় সৈকত, ছাদখোলা জিপে মেরিন ড্রাইভ ভ্রমণ এবং ঐতিহ্যবাহী মসজিদ-মন্দির ও দ্বীপগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছরই ছুটে আসেন লাখো মানুষ।
তবে হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, এবার কিছু হোটেলে শতভাগ বুকিং হলেও সার্বিকভাবে আগের মতো তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না এবং অগ্রিম রুম বুকিং তুলনামূলক কম হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, নানা অব্যবস্থাপনার কারণে পর্যটকরা কখনো কখনো কক্সবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চান।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন অবশ্য আশ্বস্ত করেছে যে, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের যেকোনো ধরনের হয়রানি রোধ এবং সৈকতসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ জোরদার করা হবে।