রাজধানীর বাইরে সাত বিভাগেও শুরু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। স্বাস্থ্যবিধি আর সামাজিক দূরত্ব মেনেই পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।
ঢাকার বাইরে পরীক্ষা হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিও কমেছে। এনিয়ে স্বস্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বলেছেন, করোনার এই সময়ে বড় ভোগান্তি থেকে বাঁচা গেছে।
শুক্রবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজশাহী বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জেলা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে থাকেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কক্ষে প্রবেশ করতে দেয়া হয় পরীক্ষার্থীদের। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন, ১৪ হাজার শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি ভবনে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে।
রাবির উপ-উপাচার্য ও কেন্দ্রের প্রধান অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া বলেন, রাবির জন্য আমরা যেমন প্রস্তুতি নিই, ঢাবির জন্যেও একই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আর, ঢাকার বাইরে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাওয়ায় খুশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এদিকে, শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত 'ক' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়াও খুলনার আরও তিনটি আলাদা স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রথম দিন খুবি ক্যাম্পাসে পাঁচ হাজার ২০০ জন, খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন্স কলেজে এক হাজার ৮১৮ জন, রেভারেন্ড পলস্ হাইস্কুলে এক হাজার ৫১২ জন ও হোপ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ৩৯২ জন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। মোট আট হাজার ৯২২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। পরীক্ষা সুষ্ঠু করতে ছিলো সব ধরনের ব্যবস্থা।
আরও পড়ুন: পদ্মা ও যমুনায় টানেল নির্মাণের খবর দিলেন কাদের
আর, কোনো সংকট ছাড়াই ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সু্ষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ববির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন।
দেড় ঘন্টার ভর্তি পরীক্ষা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি কেন্দ্র ছাড়াও সরকারি মহিলা কলেজের একটি উপকেন্দ্রে পরীক্ষা নেয়া হয়।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, বিভাগীয় শহরে পরীক্ষার ব্যবস্থা করায় আর্থিক দিক থেকে সুবিধা হবে। এছাড়া তাদের আগে যে কষ্ট হতো সেটা কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
রংপুরে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পাঁচটি কেন্দ্রে ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় রংপুরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে আরো পাঁচটি কেন্দ্রে ৩১ হাজার ৩০৭ জন পরিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষারয় অংশ নেন।
বেলা ১১টায় ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শুরু হয় ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা। এতে অংশ নিতে ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ এবং ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে বাকৃবির ক্যাম্পাসে আসতে থাকেন। ঢাকায় না গিয়ে ময়মনসিংহে বাড়ির কাছে পরীক্ষার আয়োজন করায় শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা বেশ খুশি।
বাকৃবির প্রক্টর প্রফেসর ড. মহির উদ্দিন জানান, সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। পাঁচ ইউনিটে সাত হাজার ৮১২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা নিতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: মুহিবুল্লাহ হত্যার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
এবার ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ হাজার ২১৭ জন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে ক ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, পরীক্ষার সময়ে সব রকমের জালিয়াতি রোধে সর্বোচ্চ নজরদারি রয়েছে। চবিতে ভর্তি পরীক্ষায় অতীতেও জালিয়াতির ঘটনা ঘটেনি। এবারও ঘটবে না বলেও আশাবাদ জানান তিনি।
একই কথা জানিয়ে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাবি স্নাতক প্রথম বষের্র ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি ঠেকাতে সব প্রস্তুতি রয়েছে।
শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, জালিয়াতি ঠেকাতে ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন টিম কাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সঙ্গে আছে। ক্যাম্পাস ও আশেপাশে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
সেখানের সাত কেন্দ্রে বিজ্ঞান অনুষদের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন তিন হাজার ৩০৭ জন শিক্ষার্থী।
একাত্তর/আরএইচ