বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের রায়ে ২০ শিক্ষার্থীকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বুয়েটের উপাচার্য সত্যপ্রসাদ মজুমদার। একইসঙ্গে স্বল্প সময়ে রায় কার্যকরের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বুয়েট উপাচার্য বলেন, বিচার বিভাগের ওপর আমাদের আস্থা রাখা উচিত। তারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখে সঠিক রায়টিই দিয়েছেন বলে আমরা মনে করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে অল্প সময়ে বিচারটি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা চাই, আইনগত প্রক্রিয়া মেনে রায়টি দ্রুত কার্যকর করা হোক।
রায়ের বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, এই রায় বাংলাদেশের ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এসময় পলাতক তিনজনকে আটকের দাবি জানান তারা।
এর আগে, বুধবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান আবরার হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বুয়েটের উপাচার্য বলেন, রাজনীতি যে অপরাজনীতি হবে সেটা কে জানতো। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে ছাত্রদের মতামত নিয়ে চলতে চাই। রাজনীতির প্রভাব যেনো না থাকে সেই ভাবেই কাজ করে যাচ্ছে বুয়েট প্রশাসন।
আরও পড়ুন: আবরার হত্যার রায়ে নাখোশ আসামিপক্ষ, আপিলের সিদ্ধান্ত
আবরার হত্যার পর বুয়েটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র মাহমুদুর রহমানের কাছে রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুপুরে সভার মাধ্যমে পর রায়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর চকবাজার থানায় বুয়েট শাখার ছাত্রলীগের ১৯ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেক জনকে আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্ত করে বুয়েটের ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। তা আমলে নিয়ে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ২২ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে, ৩ জন এখনো পলাতক।
একাত্তর/টিএ