পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনে। প্রতিটি খাবারের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। কিন্তু কমে গেছে পরিমাণ।
নিরুপায় হয়ে তালিকা ছোট করে এনেছেন শিক্ষার্থীরা। দাম বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে হল কর্তৃপক্ষ বলছে, দামে ভারসাম্য রাখা নিয়ে আলোচনা চলছে।
দুটি পরোটা, ভাজি আর মাঝে মধ্যে ডিম- এই দিয়েই সকালের নাশতা সারতেন তৃতীয় বর্ষের আতিয়া ওয়াসিফা। এ জন্য তার বরাদ্দ ছিলো ২৫ টাকা।
কিন্তু এখন একই নাশতা ৩৫ থেকে ৪০ টাকার নিচে হচ্ছে না। ফলে তার মাস প্রতি খরচের হিসাব মেলানোই এখন বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইনিং আর ক্যান্টিনে আগে রান্না করা ডিমের দাম ছিলো ১৫ টাকা। এখন ২০ থেকে ২২ টাকা। কারণ সেই একই, ডিমের দাম বেড়ে গেছে।
২০-২২ টাকায় মিলতো মুরগির মাংস। এখন হল ভেদে ৩০-৪০ টাকা। গরুর মাংসটা অনেকের জন্যই বিলাসিতা। বেড়েছে দাম। কমেছে পরিমাণ। ছোট হয়েছে মাছ মাংসের টুকরোও।
হল শিক্ষার্থীরা জানান, খাবার আগের মতোই আছে। দাম বেড়েছে। দাম বাড়ানোর পর প্রথম কয়েকদিন খাবার ভালো দিয়েছিলো। এখন আবার সব আগের মতো।
বাজারে যখন আগুন তখন বাস্তবতা বিবেচনা করে খাবারে ভর্তুকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তা না হলে হলে থেকে পড়াশুনা করাই কঠিন হয়ে যাবে।
কিন্তু কার্যকর ছাত্র সংসদ না থাকায় শিক্ষার্থীদের এই দাবির কথা সরাসরি জানানো নিয়ে সঙ্কট দেখছেন ডাকসুর সাবেক ছাত্র নেতারা।
আরও পড়ুন: চাঁদা বাণিজ্য থেকে ফুটপাতকে মুক্ত করার পরামর্শ
আর আবাসিক হলে প্রাধ্যক্ষরা বলছেন, ডাইনিং ও ক্যান্টিনে কাবারের দাম বেড়ে যাবার বিষয়টি সম্পর্কে তারা জানেন। এতে শিক্ষার্থীদের কষ্ট হচ্ছে সেই কথাও মানছেন তারা।
প্রাধ্যক্ষরা জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। তবে দাম যাতে অতিরিক্ত না বাড়ে সে বিষয়ে নজরদারির ব্যাপারে একমত হয়েছেন তারা।
এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে খিচুরির সঙ্গে মুরগির পচা মাংস খাওয়ানোর অভিযোগে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে একটি দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
একাত্তর/এসজে