বরগুনার আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ৬৫ শিক্ষার্থীকে দুই বছর ধরে পড়ানো হয়েছে কৃষি শিক্ষা। পরীক্ষার হলে গিয়ে প্রশ্নপত্র মিলেছে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ ভুল বিষয়ে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন তাদের। ভুল বিষয়ে প্রস্তুতিহীন পরীক্ষা দেয়ার মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে বাকি পরীক্ষাগুলোও খারাপ হচ্ছে তাদের।
চলতি দাখিল পরীক্ষায় ১৭ মে কৃষি শিক্ষা বিষয়ে পরীক্ষা দিতে যায় আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরা। সে অনুযায়ী ছিলো প্রস্তুতি।
কিন্তু পরীক্ষার হলে তাদেরকে দেয়া হয় বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের প্রশ্নপত্র। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের অজ্ঞাতেই বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয় নিবন্ধন করিয়েছেন মাদ্রাসা অধ্যক্ষ।
অথচ নবম ও দশম শ্রেণীতে দু'বছর ধরে পড়ানো হয়েছে কৃষি শিক্ষা। টেস্ট পরীক্ষাও হয়েছে এই বিষয়ে। ফলে দাখিল পরীক্ষার উত্তরপত্রে তারা কিছুই লিখতে পরেনি।
পরীক্ষার্থী সজিব মৃধা বলে, কৃষি শিক্ষা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে কেন্দ্রে আসি। কিন্তু কেন্দ্রে এসে দেখি আমাদের বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আরো জানান, মাদরাসা অধ্যক্ষের কাছে পরীক্ষার ফরম পূরণের পূর্বে একাধিকবার রেজিস্ট্রেশন কার্ড চাইলেও তিনি তা দেননি।
হোসাইনিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ইউনুচ আলী শিকদারের এমন দায়িত্বহীনতার বিচার ও সঠিক বিষয়ের প্রশ্নপত্রে আবার পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ ইউনুচ আলী জানান, শিক্ষার্থীদের ইচ্ছা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছেন।
আর কেন্দ্রের সহকারী কেন্দ্রসচিব মাওলানা আনোয়ার হোসেন বলেন, পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এ ভুল কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির না, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের।
আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক মিলন বলেন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র অনুযায়ী প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পরীক্ষার্থীদের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। কৃষি শিক্ষা বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার জন্য মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীরা।
একাত্তর/আরবিএস