আইডিয়াল স্কুলে উদযাপিত হতে যাচ্ছে সরস্বতী পূজা

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পর প্রথমবারের মতো রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে উদযাপিত হতে যাচ্ছে সরস্বতী পূজা।

নানা জটিলতা শেষে সোমবার পূজা উদযাপনের করার অনুমতি দিয়েছে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এটি মানবেন না, এমন যুক্তি দেখিয়ে পূজা উদযাপন না করতে মাউশিকে চিঠি দিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। কিন্তু মাউশি বলছে, শিক্ষার্থীরা যেহেতু মিলাদ ও পূজার জন্য বার্ষিক চাঁদা দিয়ে থাকে এবং সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থীদেরও নিজ ধর্ম পালনের অধিকার আছে। তাই পূজা উদযাপনে বাধা দেওয়া যাবে না।

সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিজ ধর্ম পালনের অধিকার আছে। রীতি অনুযায়ী প্রতিবছর দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরস্বতীর পূজা উদযাপিত হয়। এদিনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটিও থাকে। বছরের শুরুতেই তারা পূজার জন্য চাঁদাও দিয়ে থাকে। তবে প্রতিষ্ঠানে সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থীদের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে পূজা উদযাপনের বিষয়টি।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থীরা এবার সরস্বতী পূজা উদযাপনের আবেদন জানালেও প্রথমে তাদের অনুমতি দেননি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮শ’ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী। তাদের মধ্যে আড়াইশ’ শিক্ষার্থী পূজা উদযাপনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলো গেলো সপ্তাহে।

এর আগে এই প্রতিষ্ঠানে কখনও সরস্বতী পূজা হয়নি এবং শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এটি মেনে নেবে না এমন যুক্তি দেখিয়ে পূজা না করার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে মাউশির কাছে সিদ্ধান্ত জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইমাম হোসেন বলেন, এলাকার লোক, ছাত্ররা পূজা চাচ্ছে না। আমরা দেখছি, কী করা যায়।

মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেছেন, মুসলিম শিক্ষার্থীদের মতো সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থীদেরও নিজ ধর্ম পালনের অধিকার আছে।

এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব। তিনিও পূজা উদাযাপনের পক্ষে। অবশেষে সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শিক্ষার্থীরা সরস্বতী পূজার অনুমতি পেলো।