আবারো পুরনো রূপে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ

স্কুল-কলেজে খুলে দেওয়ার একদিন পরই দেশের সবগুলো মেডিক্যাল কলেজেও শুরু হলো সশরীরে পাঠদান। এর মধ্যে দিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরলো আরো প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী।

শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের ওঠানোর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি আগেই শেষ করে রেখেছিলো মেডিক্যাল কলেজগুলোর কর্তৃপক্ষ।

সোমবার ক্লাস শুরুর পর প্রথম দিন প্রথম, দ্বিতীয় ও পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে এসেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর ক্লাসে ফেরার আনন্দ উদযাপন করেছেন তারা। 

চলতি বছর ভর্তির পর, প্রথমবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পা দিয়েছে ছেলে ইফতি। আদরের সন্তানকে এক নজর মেডিক্যালে সশরীরে ক্লাস করতে দেখার উৎসাহে গ্রামের বাড়ি থেকে এসেছেন মা সুলতানা পারভীন।

সশরীরে ক্লাস করা, ব্যবহারিক ক্লাসের যন্ত্রগুলো একবার ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হলো। তাই ইফতির মতো অনেক শিক্ষার্থীই আপ্লুত আবেগে।

এতদিন অনলাইনে দ্বিতীয় এবং পঞ্চম বর্ষের তাত্ত্বিক বিষয়ের পাঠদান হলেও মেডিক্যালের ব্যবহারিক ক্লাসগুলো বন্ধ ছিলো। সোমবার শুরু হয়েছে সেসব ক্লাসও।

অনেকদিন পর বন্ধু-সহপাঠীদের সাথে দেখা হবার ক্ষণটুকুর উদযাপনও চলছে পাশাপাশি। আর, তাদের বরণ করে নিতে কলেজের ফটক ও শ্রেণিকক্ষের দরজা সাজানো হয় বেলুন দিয়ে।

তবে, ঢাকা মেডিক্যালে কলেজ ঠিক কোভিড হাসপাতালের সাথেই হওয়ায় চিন্তিত অভিভাবকরা ভিড় করেন স্বাস্থ্য নিরাপত্তা কতটুকু তা একঝলক দেখে যেতে।

যদিও স্কুল কলেজের মতো এখানে ঢোকার মুখে দেখা মেলেনি হাত জীবাণুমুক্ত করার এবং তাপমাত্রা মাপার কোন ব্যবস্থার।

২৩০ জন নতুন শিক্ষার্থীর নবীন বরণের আয়োজনেও ছিলো না সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সুযোগ। তবে, বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর টিকাকরণ শেষ হওয়ায় কিছুটা সুরক্ষা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. টিটো মিঞা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস শুরুর সব প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। 

তিনি জানান, প্রতিদিন প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও পঞ্চম বর্ষের জন্য প্রথম এক ঘণ্টার ক্লাস হবে অনলাইনে। প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের জন্যও সময় ভাগ করা হয়েছে।

অধ্যাপক টিটো মিঞা বলেন, ১৫ দিন ধরে হল সংরক্ষিত রাখা ছিলো। শিক্ষার্থী নয়, এমন কাউকে হলে থাকতে দেওয়া হবে না। 

করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রকোপ চলছে, তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গতি বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে কলেজ ক্যান্টিনের বাইরে খেতেও অনুৎসাহিত করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।



একাত্তর/এআর