পরীক্ষায় বসেছে শিক্ষার্থীরা, বাইরে উৎকণ্ঠায় অভিভাবক

প্রায় ১০ ঘণ্টা রাজপথ অবরোধ ও আন্দোলনের পর পরীক্ষাস্থগিতসহ তিন দফা দাবি জানিয়ে অবশেষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হয়। তবে আন্দোলনের রেশ কাটেনি; পরীক্ষা শেষে বেলা দেড়টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে ‘লংমার্চ’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এই কর্মসূচিকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে অন্য দিনের তুলনায় আজ বেশিসংখ্যক অভিভাবক সন্তানদের সঙ্গে এসেছেন এবং পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করছেন।

এদিন বিজ্ঞান বিভাগে পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীর সিটি কলেজসহ বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানা গেছে।

পরীক্ষার্থীরা জানান, বৈরী পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের দুটি পরীক্ষাই পরে নেওয়ার জন্য তারা অনুরোধ করেছিলেন। কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষারত অভিভাবকেরা সন্তানদের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এক অভিভাবক বলেন, গতকাল শিক্ষার্থীরা রাত পর্যন্ত আন্দোলন করেছে। আজ পরীক্ষার জন্য তারা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারেনি। তাই পরীক্ষাটি পরে নেওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

তবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার কয়েকজন অভিভাবক ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়। যে দুটি প্রশ্নের ভুল হয়েছে, তার নম্বর যদি সব শিক্ষার্থীকে সমানভাবে যুক্ত করে দেওয়া হয়, তবেই এর সমাধান সম্ভব।

মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা লংমার্চ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন কি না, তা পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের একাংশ।

আজ আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে দিনভর বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় ১০ ঘণ্টা আন্দোলন শেষে তারা অবরোধ তুলে নেন। তাদের উত্থাপিত তিন দফা দাবিগুলো হলো—

  • দুর্যোগ পরিস্থিতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা।
  • গত ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা।
  • শিক্ষা মন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ।

তবে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের মুখেও পরীক্ষা স্থগিতের বৈশ্বিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কর্তৃপক্ষ। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি জানিয়েছে, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কেবল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও পরীক্ষা সচল রাখার এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।

পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ পরীক্ষা শেষে বেলা দেড়টায় রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টার থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।