চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করার পরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি। শনিবার, প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির ভর্তি সংক্রান্ত দ্বিতীয় ধাপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৫ জন শিক্ষার্থী পাস করলেও আবেদন করেছে মাত্র ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৮ জন।
অর্থাৎ, পাস করা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ২৭ শতাংশ বা ৩ লাখ ৯ হাজার ৯৭৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়ার বাইরেই রয়ে গেছে, যা প্রতি চারজন পাস করা শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় একজনের আবেদন না করার সমান। উদ্বেগের বিষয় হলো, সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও একাদশ শ্রেণির সাধারণ ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার হার লক্ষণীয়।
এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৬৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ হাজার ৫৩৫ জন একাদশে ভর্তির জন্য কোনো আবেদন করেনি, যা জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মোট সংখ্যার প্রায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। উচ্চ ফলাফলের পরও এসব শিক্ষার্থী কেন সাধারণ ধারার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বাইরে রয়েছে, প্রকাশিত পরিসংখ্যানে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় ধাপের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ ধাপে মোট ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে, যাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কলেজে পছন্দক্রম অনুযায়ী ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ২১৫টি আবেদন জমা পড়েছিল।
প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ মিলিয়ে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থীর কলেজ নির্বাচন নিশ্চিত হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে স্বয়ংক্রিয় মাইগ্রেশনের মাধ্যমে ৫৬ হাজার ৮০৪ জন শিক্ষার্থী তাদের পছন্দক্রম অনুযায়ী নতুন কলেজে স্থানান্তরের সুযোগ পেলেও আবেদন করার পরও ১৪ হাজার ১৪ জন শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত কোনো কলেজে স্থান পায়নি। কোনো কলেজে নির্বাচিত না হওয়া এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থীও রয়েছে।
দেশের কলেজ ও মাদরাসায় একাদশের মোট আসনের তুলনায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখনও অত্যন্ত কম। সারাদেশের ৮ হাজার ১৮১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে মোট ২৬ লাখ ১ হাজার ৭৭৯টি আসন রয়েছে। এর বিপরীতে দুই ধাপ মিলিয়ে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হওয়ায় বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখের বেশি আসন খালি অবস্থায় রয়েছে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ খালি আসনগুলোতে শেষ পর্যন্ত কত শিক্ষার্থী ভর্তি হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী ধাপের আবেদন, মাইগ্রেশন এবং চূড়ান্ত ভর্তি প্রক্রিয়ার ওপর।