ঘামঝরানো আয়ে শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণ করলেন ছাত্রদল নেতা

অভাবের কঠিন বাস্তবতায় বারবার মানুষের স্বপ্নগুলো থমকে যেতে চায়। কিন্তু সমাজে কিছু মানুষ থাকেন, যারা নিজের ঘাম ঝরানো উপার্জনে অন্যের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। ঠিক তেমনই এক উজ্জ্বল মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তারিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক মাস্টার্স শিক্ষার্থী ও স্যার এ এফ রহমান হলের (জিয়া হল) আবাসিক বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন। কয়েক বছর আগে বাবাকে হারানোর পর পুরো পরিবারের দায়ভার এসে পড়ে এই তরুণের কাঁধে। হাতে কোনো টিউশনি না থাকায় আয়-রোজগারের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মাস্টার্স পরীক্ষার ফরম পূরণের নির্ধারিত ফি জোগাড় করা তাঁর জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এমন এক অনিশ্চিত মুহূর্তে সেই শিক্ষার্থীর পাশে দেবদূতের মতো দাঁড়িয়েছেন ছাত্রদল নেতা তরিকুল ইসলাম তারিক। কোনো বড় বিজ্ঞাপন বা আনুষ্ঠানিক প্রচার ছাড়াই রাইড শেয়ারিং অ্যাপে বাইক চালিয়ে নিজের কষ্টে অর্জিত অর্থ থেকে ওই শিক্ষার্থীর মাস্টার্স পরীক্ষার ফরম পূরণের পুরো টাকা পরিশোধ করে দেন তিনি।

সলিমুল্লাহ হল ছাত্রদলের সাবেক এই নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শিক্ষার্থীর এই সংকটের কথা জানতে পেরে বিষয়টিকে নিজের ব্যক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন। নিজের হাড়ভাঙা খাটুনির এক অংশ বিলিয়ে দিয়ে নিশ্চিত করেন, যেন কেবল টাকার অভাবে একটি সম্ভাবনাময় শিক্ষাজীবন অকালে ঝরে না যায়।

জের এই পদক্ষেপ সম্পর্কে তারিক অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলেন, অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন মাঝপথে থেমে যাক, তা আমি কখনোই মেনে নিতে পারি না। আমি নিজেও অনেক সংগ্রামের পথ পেরিয়ে এত দূর এসেছি। তাই নিজের সামর্থ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। ছেলেটির সমস্যার কথা শুনে মনে হয়েছিল, একজন সহযোদ্ধা হিসেবে এটি আমার নৈতিক দায়িত্ব।"

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে এখন এই মানবিক ঘটনাটি ইতিবাচক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাজনীতি মানে শুধু নেতৃত্ব বা পদের লড়াই নয়; রাজনীতি হলো মানুষের বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়ানো। আর তরিকুল ইসলাম তারিক প্রমাণ করেছেন, একজন সত্যিকারের ছাত্রনেতার প্রকৃত পরিচয় পদবিতে নয়, বরং সাধারণ মানুষের কষ্টে তাঁর ভূমিকায়।