স্বাধীনতা দিবসে প্রথম আলোর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কিত নিউজ কনটেন্টকে পত্রিকাটির আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাবিরোধী অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান।
আর এটিকে প্রথম আলোর ‘টেকনিক্যাল ভুল’ উল্লেখ করে ‘গেল গেল’ রব তোলায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে বলেছেন দাবি করেছেন কবি, লেখক ও সাংবাদিক আবুল মোমেন।
রোববার রাতে একাত্তরের নিয়মিত আয়োজন ‘একাত্তর মঞ্চে’ যুক্ত হয়ে এসব মন্তব্য করেন তারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন একাত্তর টেলিভিশনের চিফ প্ল্যানিং অ্যান্ড কনটেন্ট এডিটর নূর সাফা জুলহাজ।
অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘প্রথম আলো মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী পত্রিকা নয়। কিন্তু তাদের অবস্থান আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা বিরোধী।
এ প্রসঙ্গে তিনি ১/১১ পরবর্তী নির্বাচন কভারেজে দৈনিকটির দৃষ্টিভঙ্গি ও পদ্মাসেতু নিয়ে নানা নেতিবাচক প্রচারের কথা উল্লেখ করেন।
স্বাধীনতা দিবসে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ফটোকার্ডে অন্য এক ব্যক্তির উদ্ধৃতির সঙ্গে একটি শিশুর ছবি জুড়ে দেয়া। ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেই ছবি সরিয়ে নেয় প্রথম আলো। কিন্তু ওই কার্ডে যে উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হয় হয় তা নিয়ে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ উপাদান থাকার কথাও বলা হচ্ছে।
সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে আবুল মোমেন বলেন, এরকম একটা টেকনিক্যাল ভুলের জন্য এতো বেশি প্রতিক্রিয়ার কারণে বরং প্রথম আলোর প্রতি সহানুভূতি বাড়ছে ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
প্রথম আলোর বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, সংবাদের ক্ষেত্রে টুইস্ট করা ঠিক না। তাতে সংবাদ সত্যনিষ্ঠতা হারায়। এ ধরনের সংবাদ ছাপা হলে তাতে ওই সংবাদপত্রের গ্রহণযোগ্যতাও হারায়।
ওই সংবাদটি ভুল না অপরাধ-সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল মোমেন বলেন, আমি ঘটনাটিকে ভুল হিসেবেই দেখি। কারণ বাইরে আলোচনার আগেই যারা ছেপেছে, ১৭ মিনিটেই তারা সরিয়ে নিয়েছে এবং সংশোধনীও দিয়েছে।
প্রথম আলোর এই ভুল নিছকই টেকনিক্যাল ভুল নাকি এজেন্ডা নিয়ে করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুল- অনেকের এমন প্রশ্নের কথা উল্লেখ করলে আবুল মোমেন বলেন, প্রথম আলোর সম্পাদকীয় নীতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে তারা আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছে। কর্তৃপক্ষও শুরুতে একে স্বাধীনতাবিরোধী বললেও পরে শিশুর ওপর জুলুম হিসেবে উল্লেখ করেছে।
একটি গণমাধ্যম রাজনীতি বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বিরোধী এজেন্ডা নিয়ে আসতে পারে- এ ধারণা কীভাবে তৈরি হলো- এমন এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মান্নান বলেন, প্রথম আলোর ‘যোগ্য প্রার্থী আন্দোলন’ পরবর্তীতে ১/১১’য় পরিণত হয়।
সম্পাদক জামিন পেলেন অথচ প্রতিবেদক জেলে- এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি প্রতিবেদকেরও জামিন পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং যথাসময়ে জামিন পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিক শামসুজ্জামানের গ্রেপ্তার একটা ভুল মোকাবিলা করতে গিয়ে আরেকটা ভুল কিনা- এমন প্রশ্নে আবুল মোমেন বলেন, সংক্ষুব্ধ পক্ষ প্রেস কাউন্সিলে যেতে পারতো এবং বিষয়টি সেখানেই শেষ হতে পারতো।
একাত্তর মঞ্চের এদিনের দুই অতিথিই স্বীকার করেন ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন নিয়ে নানা অসঙ্গতির বিষয়ে। অবিলম্বে আইনটি বাতিল বা এর ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে গুরুত্বারোপ করেন তারা।
একাত্তর/জো