বাংলাদেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্প্রতি একটি নতুন ভিসা নীতির ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাদের ভাষ্যমতে, এই নীতির উদ্দেশ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উন্মুক্ত নির্বাচনে বাংলাদেশকে সহায়তা করা।
নতুন ভিসা নীতির লক্ষ্য আসলে কি? তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে বিভিন্ন মহলে। কারও মতে, এর লক্ষ্য সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দুই বড় দলের ওপর চাপ তৈরি। কেউ মনে করছেন, এটি রেজিম পরিবর্তনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলী বার্তা।
আবার কেউ বলছেন, এর পেছনে রয়েছে নির্বাচনকে রেখে আমেরিকার ভূ-অর্থনৈতিক স্বার্থ, বঙ্গোপসাগরে ব্লু ইকোনমি বা সাগরে কৌশলগত অবস্থান।
এসব বিষয় নিয়ে আলাপ করতে একাত্তর টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন একাত্তর মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিয়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. মোস্তফা সারওয়ার, সাবেক কূটনৈতিক ড. শমসের মবিন চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আমেনা মহসিন।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক একাত্তর টেলিভিশনের এডিটোরিয়াল হেড নূর সাফা জুলহাজ শুরুতেই প্রশ্ন রাখেন, একটি স্বাধীন দেশের নির্বাচনকে লক্ষ্য করে কীভাবে একটি ভিসা নীতি হতে পারে?
জবাবে ড. মোস্তফা সারওয়ার বলেন, এখানে যুক্তরাষ্ট্রেরও স্বার্থ জড়িত। বন্ধু রাষ্ট্রে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করার মাধ্যমে বন্ধুত্ব দীর্ঘস্থায়ী করা ও জনগণের মঙ্গল এই নীতির উদ্দেশ্য হতে পারে।
তবে সৌদি আরব কিংবা ফিলিস্তিন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই, একে তাদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বলা যায় কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে মার্কিন রাজনৈতিক দলগুলোকে অনেক সহনশীল হতে দেখা যায়। তবে অভ্যন্তরীণভাবে সৌদি ও ইসরাইলের ওপর চাপ থাকলেও, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই চাপ একটু ভিন্নভাবেই প্রয়োগ করতে দেখা যায়।
এক্ষেত্রে ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চলভেদে প্লেয়ার কারা, তার ওপর নির্ভর করে কৌশল ভিন্ন হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নূর সাফা জুলহাজ প্রশ্ন করেন, তাহলে কি এই ভিসা নীতির সামনে নির্বাচন থাকলেও, আড়ালে এই অঞ্চলের প্লেয়ার কারা এবং তাদেরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে?
এ ব্যাপারে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূত ড. শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, পশ্চিমারা আইনভিত্তিক শাসন ব্যবস্থার কথা বললেও, তারা শেষমেশ যার কাছে স্বার্থ বেশি সেখানেই কাজ করবে।
দেশের ইস্যুতে বিদেশিদের জড়ানোর ঔপনিবেশিক প্রবণতা স্বাধীন দেশের রাজনীতি বা সুশীল সমাজের বৈশিষ্ট্য হতে পারে কিনা, সে ব্যাপারে জানতে চাইলে ড. আমেনা মহসিন বলেন, এখানে যেমন ঔপনিবেশিক মনোভাবকে দায়ী করা যায়, অন্যদিকে জনগণ এবং সিস্টেমের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর অনাস্থাকেও দায়ী করা যায়।
তবে কারণ যাই হোক, দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে নিজেদেরকেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
একাত্তর/এসজে