বিদেশি তৎপরতা, সংলাপ, নির্বাচন: কী হচ্ছে আড়ালে?

দেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের অন্যতম খবর। সংলাপ নিয়েও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিন্ন ভিন্ন মত। আবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা পরস্পরের সাথে সংলাপে বসার সম্ভাবনা নাকচও করে দিয়েছেন। 

এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে বুধবারের একাত্তর মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক একাত্তর টেলিভিশনের এডিটোরিয়াল হেড নূর সাফা জুলহাজের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তারা। 

সঞ্চালক অতিথিদের সামনে যেসব প্রশ্ন রেখেছিলেন, তার মধ্যে ছিল গণতন্ত্রে সংলাপ ছাড়া সংকট সমাধানের অন্য কোনও বিকল্প থাকে কিনা, আমেরিকা নির্বাচনকে কাজে লাগিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিকে দখলদারিত্বের জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করতে চায় কিনা এবং এই রাজনীতি কতটা অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও কতটা জনগণের স্বার্থের জন্য? 

দেন-দরবারে সুবিধার জন্য বিএনপি আমেরিকার আচরণকে হস্তক্ষেপ বলতে চায় না, এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমেরিকার সাথে বিএনপির কোনো দেনদরবার নেই। তারা এখানে আওয়ামী লীগের সাথেও বসছে, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সাথেও বসছে। এর রেজাল্ট কোথায় গিয়ে শেষ হয় সে পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। 

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের প্রতিক্রিয়া কূটনৈতিক নয় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কোনো কারণে আওয়ামী লীগের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তর্কযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন। সরকার কেনো এই ভাষায় কথা বলছে সেই প্রশ্ন রাখেন তিনি। 

নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক থাকলে মার্কিনিরা কেনো ভিসানীতি নাজিল করলো তা জানতে চাইলে ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, এটা একটা ষড়যন্ত্রমূলক কাজ। গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে লবিস্টের পেছনে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে বিএনপি ও জামায়াত। 

তাহলে, গত তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ যা করতে পারেনি, বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থেকে লবিস্ট নিয়োগ করে তা করে ফেললো, ব্যাপারটা কী এতোটাই সরল? 

জবাবে তিনি বলেন, মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করলে তার একটা রেজাল্ট তো আসবেই, সেটা নেগেটিভ বা পজিটিভ যাই হোক। কিন্তু এটা প্রয়োগ করতে গিয়ে তাদের জন্যই বুমেরাং হয়ে গেছে। এতে আমাদের কোনও অসুবিধা নেই, কারণ আমরা নির্বাচন বানচাল করতে যাচ্ছি না।


একাত্তর/এসজে