সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি কমে হলো ৫০ টাকা

ডেঙ্গু সংক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করার মধ্যে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে নমুন পরীক্ষার ফি কমানো হয়েছে। আগামী ১ মাস ১০০ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকায় ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো যাবে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বার্তার বরাত দিয়ে তথ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ১ মাস সকল সরকারি হাসপাতালে ১০০ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকায় ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো যাব। 

বিশেষ বার্তায় ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার ওপর নজর দিতে হবে বলে এবং জ্বর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার উপদেশও দেয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার একদিনেই ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে হাজারের ওপর। বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যুও হয়েছে এদিন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৫৪ জন। যা এ বছরে একদিনে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির রেকর্ড।

এদিন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সাত জন। এটাই এ বছরে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩ জনে। 

চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসা ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা পৌঁছে গেছে ১৪ হাজার ৮৯৭ জনে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০ হাজার ২৯২ জন এবং ঢাকার বাইরে ৪ হাজার ৬০৫ জন।

ডেঙ্গু হলে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দ্রুত যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়ে বিশেষ বার্তায় বলা হয়েছে, ডেঙ্গু নিয়ে যেন মানুষের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়ায়। সাধারণ চিকিৎসাতেই এই জ্বর সেরে যায়।

তবে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম এবং হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর মারাত্মক হতে পারে বলেও বিশেষ বার্তায় সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধদিপ্তরের বিশেষ বার্তায় ডেঙ্গুর লক্ষণ, করণীয় ও এডিস মশার প্রজনন রোধ নিয়েও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। 

ডেঙ্গুর লক্ষণ: তীব্র মাথা ব্যথা; চোখের পেছনে ব্যথা; শরীরের পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা; বমি বমি ভাব; নাসিয়া গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া; শরীরে র‌্যাশ ওঠা; শরীরে লালচে দানা, পাতলা পায়খানা।   

ডেঙ্গু হলে করণীয়: জ্বর হলে বেশি বেশি তরল খাবার খাবেন। যেমন-স্যালাইন, ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের রস, স্যুপ ইত্যাদি।

প্রতিরোধ:

মশার কামড় থেকে বাঁচতে যতটা সম্ভব শরীর ঢেকে রাখতে পারে এমন পোশাক পরিধান করতে হবে;

দিনে অথবা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে; 

পরিবার, প্রতিবেশী ও কমিউনিটির মধ্যে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে;

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সকলকে সরাসরি যুক্ত হওয়ার জন্য সচেষ্ট হতে হবে।

মশার প্রজনন রোধে ব্যবস্থা :

ঘরে ও আশেপাশের যে কোন পাত্রে বা জায়গায় মাঠ অথবা রাস্তায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না; 

ব্যবহৃত পাত্রের গায়ে লেগে থাকা মশার ডিম অপসারণে পাত্রটি ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে;

ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা বা নারিকেলের মালা, কনটেইনার, মটকা, ব্যাটারি সেল,  ফ্রিজে জমে থাকা পানি ৩ দিনের মধ্যে ফেলে দিতে হবে; 


একাত্তর/আরবি