ঢাকা দক্ষিণের ১৮ স্থাপনাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা

এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) ১৮ স্থাপনাকে ২ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার করপোরেশনের সেগুনবাগিচা, মতিঝিল, পল্টন, চকবাজার, সূত্রাপুর, জুরাইন, দক্ষিণগাঁও, ডেমরা ও শরীফাপাড়া এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করে ৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত। খবর বিজ্ঞপ্তির।

এসময় মসজিদ, সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রসহ ২০টি স্থাপনা ও স্থানে বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।  

দুই নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শাহনেওয়াজ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মতিঝিল এলাকায় ১৮টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় কোন স্থাপনায় মশার লার্ভা পায়নি।

এছাড়াও দুই নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার হক ১৩ নম্বর পল্টন এলাকায় ২৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় ২টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

তিন নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তায়েব-উর-রহমান চকবাজারের খাজে দেওয়ান এলাকার ১ম লেন ও ২য় লেনে অভিযান পরিচালনা করেন এবং ৩৮টি বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় ১ম লেনে ‘স্টুডিও প্রোপার্টি’ কর্তৃক একটি নির্মাণাধীন ভবনে প্রচুর পরিমাণে এডিস মশার লার্ভা প্রকল্পটির সুপারভাইজার ফাতেমা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নুর ইসলামের বিরুদ্ধে ২টি মামলায় যথাক্রমে এক লাখ ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও আদায় করেন।

তাছাড়া আদালত ২য় লেনে আরেকটি ব্যক্তি মালিকানাধীন নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা যাওয়ায় ভবনটির প্রতিনিধি মিরাজুর রহমানকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও আদায় করেন।

চার নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের সূত্রাপুর এলাকায় ২৫টি স্থাপনা ও বাসাবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন এবং ২টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পায়। আদালত এ সময় ভবন ২টির মালিককে সতর্ক করে দেন।

পাঁচ নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সফি উল্লাহ ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জুরাইন এলাকায় ২৪টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন এবং ১টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ১ মামলায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

সাত নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাওসীফ রহমান ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দিপাড়ার দক্ষিণগাঁও এলাকায় ৩৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন এবং ৫টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ২১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

আট নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডেমরা এলাকায় ৩৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন এবং ১টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ১ মামলায় ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

৯ নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের যাত্রাবাড়ীর শরীফাপাড়া এলাকায় ৪৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন এবং ৫টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ২৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ছয় মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪২৪

আজকের অভিযানে সর্বমোট ২৮০টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় ১৮টি বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনে মশার লার্ভা পাওয়ায় ১৮ মামলায় সর্বমোট ২ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।


একাত্তর/আরএ